জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম
বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে (২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪) নজিরবিহীন অনিয়ম ও ভোট জালিয়াতির তদন্ত রিপোর্ট প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দিয়েছে বিশেষ তদন্ত কমিশন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই রিপোর্ট গ্রহণ করে প্রধান উপদেষ্টা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,নির্বাচন ডাকাতি আর কখনও যেন না ঘটতে পারে, সেই ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে।
সাবেক বিচারক বিচারপতি শামীম হাসনাইনের নেতৃত্বাধীন এই কমিশন তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০১৪ সালের ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়া এবং অবশিষ্ট ১৪৭টি আসনের নির্বাচন ছিল সম্পূর্ণ সাজানো।
মূলত আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতেই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এই নীল নকশা বাস্তবায়ন করা হয়। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রায় ৮০ শতাংশ কেন্দ্রে আগের রাতেই ব্যালটে সিল মারা হয়েছিল এবং ২০২৪ সালে ‘ডামি’ প্রার্থীর অভিনব কৌশলে নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দেখানোর অপচেষ্টা করা হয়েছিল।
| নির্বাচনের সাল | প্রধান অনিয়মের ধরন | কমিশনের পর্যবেক্ষণ |
|---|---|---|
| ২০১৪ | ১৫৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা | নির্বাচন ছিল সম্পূর্ণ সাজানো ও সুপরিকল্পিত। |
| ২০১৮ | রাতের ভোটে ব্যালট ভর্তি | ৮০% কেন্দ্রে রাতেই সিল মারা হয়; ভোট ১০০% ছাড়িয়ে যায়। |
| ২০২৪ | ‘ডামি’ প্রার্থী ও বয়কট | প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দেখানোর অপকৌশল ও রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের ব্যবহার। |
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা ভোট ডাকাতির কথা জানতাম, কিন্তু এত নির্লজ্জভাবে পুরো সিস্টেমকে দুমড়ে-মুচড়ে ফেলা হয়েছে—এগুলো জাতির সামনে আসা দরকার। মানুষের টাকায় নির্বাচন করে পুরো জাতিকেই শাস্তি দেওয়া হয়েছে।” তিনি এই জালিয়াতির সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে জনসমক্ষে নিয়ে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই এক দশকে নির্বাচন পরিচালনার ক্ষমতা কমিশনের হাত থেকে সুকৌশলে প্রশাসনের হাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন