জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম
দীর্ঘ দেড় যুগ পর দেশে এক উৎসবমুখর ও মুক্ত পরিবেশে শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার। আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই নির্বাচনি প্রচারের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের একতরফা নির্বাচনের আড়ষ্টতা কাটিয়ে দেশজুড়ে ফিরছে ভোটের উৎসব। গতকাল বুধবার দেশের ২৯৮টি সংসদীয় আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছেন।
আজ থেকেই প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু করবেন। নির্বাচনি বিধিমালা অনুযায়ী আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা পর্যন্ত প্রার্থীরা তাদের প্রচার ও ভোটারদের কাছে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন এবারের নির্বাচন দেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় পরীক্ষা।নির্বাচনি প্রচারের প্রথম দিনেই বড় রাজনৈতিক দলগুলো চমকপ্রদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ সিলেটে হযরত শাহজালাল রহ. এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচারণার সূচনা করবেন।
একইভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও আজ থেকে দেশব্যাপী নির্বাচনি প্রচারে নামছেন। দলটি আধুনিক ও ইনসাফ কায়েমের স্লোগান নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার বড় কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দীর্ঘ বছর পর রাজপথে সব বড় রাজনৈতিক দলের সরব উপস্থিতিতে নির্বাচনি ময়দান এখন তুঙ্গে। তরুণ ভোটারদের মধ্যে এবারের নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
তবে প্রচার শুরু হলেও নির্বাচন কমিশন আচরণবিধি পালনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ইসি সচিবালয় জানিয়েছে যে নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মাইকিং করা যাবে। তফসিল ঘোষণার পর নিয়ম ভেঙে প্রচার চালানোয় ইতিমধ্যে ৭৫ জন প্রার্থীকে শোকজ ও কয়েকজনকে জরিমানা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার স্পষ্ট জানিয়েছেন যে মাঠে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি সক্রিয় রয়েছে।
কাউকেই ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করতে দেওয়া হবে না। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে কমিশন প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।বিগত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে সাধারণ মানুষের মাঝে কোনো আগ্রহ ছিল না বললেই চলে। এবার আওয়ামী লীগ ও তাদের সমমনা কয়েকটি দল নির্বাচন বর্জন করলেও রেকর্ড ৪৯টি রাজনৈতিক দল ও বিপুল সংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে থাকায় প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
ইসির তথ্যমতে ২৯৮টি আসনে মোট ১৯৮১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গড়ে প্রতিটি আসনে প্রায় সাতজন প্রার্থী লড়াইয়ে আছেন। বিএনপি সবচেয়ে বেশি ২৮৮ জন প্রার্থী দিয়েছে এবং এরপরই রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জামায়াতে ইসলামী। রাজনৈতিক দলগুলোর এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন