শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

প্রার্থীদের প্রচারণার সীমারেখা: কী করা যাবে, কী যাবে না

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ১০:২১ এএম

প্রার্থীদের প্রচারণার সীমারেখা: কী করা যাবে, কী যাবে না

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রণডঙ্কা বেজে উঠেছে। বুধবার প্রতীক বরাদ্দের পর আজ বৃহস্পতিবার থেকে সারাদেশে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যেতে শুরু করেছেন। এই নির্বাচনি প্রচারণা আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চলবে। তবে এবারের নির্বাচনে প্রচারণার ধরনে আমূল পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন। 

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইসি থেকে জারি করা হয়েছে কঠোর আচরণ বিধিমালা। প্রার্থীরা অনেক কিছু চাইলেই করতে পারবেন না, আবার অনেক ক্ষেত্রে রয়েছে নতুন সুযোগ। বিশেষ করে প্রথমবারের মতো ব্যালট যুদ্ধের ময়দানে চিরচেনা কাগজের পোস্টার দেখা যাবে না যা দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা।

নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী এবার কোনো প্রার্থীই কাগজের পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। প্রচারণার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে এতদিন পোস্টার বিবেচিত হলেও পরিবেশ রক্ষা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। 

পোস্টারের বদলে প্রার্থীরা সাদা-কালো ব্যানার ও ফেস্টুন ব্যবহার করতে পারবেন। তবে সেখানেও রয়েছে মাপের কড়াকড়ি। ব্যানার সর্বোচ্চ ১০ ফুট বাই ৪ ফুট এবং ফেস্টুন ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চির বেশি হতে পারবে না। লিফলেট বা হ্যান্ডবিল হতে হবে সর্বোচ্চ এ-ফোর সাইজের এবং তাও হতে হবে সাদা-কালো। রঙিন কোনো প্রচার সামগ্রী বা পলিথিন ও রেক্সিনের ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।ডিজিটাল যুগে প্রচারণার মাধ্যম হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে কমিশন।

 

প্রার্থীরা ফেসবুক বা অন্য প্ল্যাটফর্মে প্রচার চালাতে পারবেন তবে প্রচার শুরুর আগেই রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে সংশ্লিষ্ট পেজ বা অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হবে। সবচেয়ে বড় সতর্কতা দেওয়া হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে। প্রতিপক্ষের চরিত্র হরণ বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে এআই ব্যবহার করলে তা সরাসরি নির্বাচনি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, উসকানিমূলক বক্তব্য বা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। 

সভা-সমাবেশ করার অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে স্থানীয় প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানাতে হবে এবং জন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এমন স্থানে সমাবেশ করা যাবে না।যানবাহন নিয়ে মিছিল বা শোডাউনের ক্ষেত্রেও রয়েছে কড়া বিধিনিষেধ। বাস, ট্রাক, নৌযান বা মোটরসাইকেল নিয়ে কোনো ধরনের মহড়া বা মশাল মিছিল করা যাবে না। এমনকি ভোটার স্লিপেও প্রার্থীর নাম বা প্রতীক ছাপানো নিষিদ্ধ। 

বিধি ভঙ্গের দায়ে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এমনকি তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা সরাসরি বাতিল করার ক্ষমতা রাখে। মাঠ পর্যায়ে এসব বিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে প্রতিটি আসনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি সক্রিয় রয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে প্রার্থীদের এই সীমারেখা মেনে চলা বাধ্যতামূলক।