ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ না থাকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যে কৌতূহল ছিল তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয়ে কমনওয়েলথের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ টিমের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলকে জানান যে বিগত জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত গণহত্যার দায় এবং পরবর্তী সময়ে দলটির কর্মকাণ্ডই তাদের নির্বাচনের বাইরে রাখার প্রধান কারণ।
আসিফ নজরুল সরাসরি অভিযোগ করেন যে আওয়ামী লীগ যেভাবে নির্বিচারে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালিয়েছে এবং গণহত্যা করেছে তার জন্য দলটির কোনো নেতাকর্মীর মধ্যেই ন্যূনতম অনুশোচনা দেখা যায়নি। বরং তারা দেশের বাইরে অবস্থান করে এখনো ষড়যন্ত্র ও হুমকি দিয়ে যাচ্ছে যা একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য হুমকিস্বরূপ।
আইন উপদেষ্টা তার বক্তব্যে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন যে যারা রাষ্ট্র সংস্কারের বিপক্ষে এবং ফ্যাসিস্ট কায়দায় শাসন ব্যবস্থা কায়েম রাখতে চায় তাদের পক্ষে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া অসম্ভব।
তিনি উল্লেখ করেন যে আওয়ামী লীগের প্রধান নেত্রীর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে এবং তিনি প্রতিবেশী দেশ ভারতে অবস্থান করে সেখান থেকেই জুলাই আন্দোলনের বিপ্লবীদের হত্যার নির্দেশ দিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে একটি দল যারা নিজেদের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত নয় বরং সহিংসতা উসকে দিচ্ছে তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোনো নৈতিক বা আইনগত সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। আসিফ নজরুলের মতে বর্তমান সরকার ও জনগণ যে নতুন রাষ্ট্র কাঠামো তৈরি করতে চাইছে সেখানে আওয়ামী লীগের মতো দলের অন্তর্ভুক্তি বা সংস্কার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার কোনো সদিচ্ছাই নেই।
বৈঠকে আইন উপদেষ্টা আরও বলেন যে তারা এখনো সেই পুরোনো ফ্যাসিবাদী মানসিকতা ধারণ করে এবং সুযোগ পেলেই বাংলাদেশে সেই শাসনব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সরকার ও তাদের পেটুয়া বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে দেশ-বিদেশে সমালোচনা হলেও আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকে আজ পর্যন্ত এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করতে দেখা যায়নি। এই অনমনীয় এবং অপরাধপ্রবণ মানসিকতার কারণেই তাদের রাজনৈতিক পুনর্বাসন বা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। কমনওয়েলথ প্রতিনিধি দলকে তিনি আশ্বস্ত করেন যে আওয়ামী লীগ বাদেও দেশে একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে যেখানে জনগণ তাদের প্রকৃত প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন