রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

ভোটে গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব ইস্যু

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬, ১০:৫২ এএম

ভোটে গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব ইস্যু

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ৫১টি রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে চলা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন এবং ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে এবারের নির্বাচন কেবল ক্ষমতা বদলের কোনো সাধারণ প্রতিযোগিতা নয়। 

বরং এটি দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামো নির্ধারণের একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভোটাররা এবার প্রার্থী বা প্রতীকের চেয়ে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর ওপর ভিত্তি করেই তাদের রায় দেবেন।

ভোটারদের মনে যেসব ইস্যু সবচাইতে বেশি দাগ কাটছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো—জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত গণহত্যার বিচার এবং গত দেড় দশকে গুম-খুনের ন্যায়বিচার। ভুক্তভোগী পরিবার ও সাধারণ মানুষের কাছে এটি কেবল রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং আবেগের জায়গা। 

যে দল বা জোট স্বচ্ছ তদন্ত ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিচারের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তাদের প্রতি জনসমর্থন বেশি দেখা যাচ্ছে। এছাড়া রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল সংস্কার—প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও পুলিশ বাহিনীর খোলনলচে বদলে ফেলা—তরুণ ভোটারদের প্রধান দাবি। তরুণরা মনে করেন, শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতিতেই মৌলিক পরিবর্তন দরকার।আরেকটি বড় ইস্যু হিসেবে সামনে এসেছে ‘আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থান’। 

ভারতের সঙ্গে বিগত সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি, সীমান্ত হত্যা এবং পানি বণ্টন নিয়ে জনমনে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ রয়েছে। যারা জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির কথা বলছেন, তারা ভোটারদের আস্থা অর্জনে এগিয়ে আছেন। এর পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি দমন এবং কর্মসংস্থানের বিষয়টিও ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছি‌দ্দিকুর রহমান খান বলেন, “প্রায় চার কোটি তরুণ ভোটার ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে। যারা নিজেদের গণ্ডির বাইরে এসে তরুণদের এই স্বপ্ন ধারণ করতে পারবে, তাদের পাল্লাই ভারী হবে।” অন্যদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামছুল আলম সেলিম মনে করেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি আঞ্চলিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা যারা দিতে পারবে, তারাই এগিয়ে থাকবে। শেষ পর্যন্ত সংস্কার, বিচার এবং আত্মমর্যাদার প্রশ্নে যারা বিশ্বাসযোগ্য অবস্থান নিতে পারবে, ব্যালট বিপ্লবে তাদেরই জয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।