ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার সংক্রান্ত গণভোটের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। সারাদেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ৪২ হাজার ৯৫৮টি কেন্দ্রে এখন চলছে ভোট গণনার কাজ। শেরপুর-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে কেবল ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। এবারের নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে ছিল ঈদের আমেজ।
দীর্ঘ দেড় যুগ পর মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছে। বিশেষ করে প্রায় ৪ কোটি তরুণ ভোটার প্রথমবারের মতো ভোট দিতে পেরে ব্যাপক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। অন্যদিকে ফ্যাসিবাদী শাসনের দায়ে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগকে এই নির্বাচন থেকে বাইরে রাখা হয়েছে। এই নির্বাচনের একটি ঐতিহাসিক দিক হলো একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কার বা ‘জুলাই সনদ’ এর ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়া।
ভোটাররা সংসদ নির্বাচনের জন্য সাদা এবং গণভোটের জন্য গোলাপি ব্যালট পেপার ব্যবহার করেছেন। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে মাঠে মোতায়েন ছিল ১ লাখ সেনাবাহিনীসহ ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে এবারের নির্বাচন ছিল অনন্য। প্রায় এক হাজার ড্রোন এবং ২৫ হাজার ৭শ ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’র মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রগুলো নজরদারি করা হয়েছে।
১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটারের এই বিশাল অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশে একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাজধানীসহ সারাদেশের মানুষ চার দিনের ছুটিতে গ্রামে গিয়ে তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন। এখন সবার চোখ নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফলের দিকে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন