ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদীয় আসনের ভোটের তুলনায় গণভোটে ভোটার উপস্থিতি কেন বেশি হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন যে আদালতের বিশেষ নির্দেশনার কারণে দুটি সংসদীয় আসনের ফল স্থগিত থাকলেও সেখানে গণভোটের ওপর কোনো ধরণের নিষেধাজ্ঞা ছিল না।
এর ফলে ওই এলাকাগুলোর গণভোটের তথ্য মূল হিসাবে যুক্ত হওয়ায় সামগ্রিকভাবে গণভোটের হার তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে। শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
ইসি সচিব জানান যে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও আইনি জটিলতার কারণে চট্টগ্রাম-২ এবং চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল এখনই ঘোষণা করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বাকি ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ২০৯টি আসনে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়ী হয়েছে।
অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২ টি আসনে জয় পেয়েছে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং গণঅধিকার পরিষদসহ আরও কয়েকটি দল একটি করে আসনে বিজয়ী হয়েছে। ভোটের হার সংক্রান্ত পরিসংখ্যান তুলে ধরে আখতার আহমেদ বলেন যে সংসদ নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের হার ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ হলেও গণভোটে কাস্ট হওয়া ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। এই পার্থক্যের মূল কারণ হলো স্থগিত হওয়া দুটি আসনের গণভোটের হিসাব মূল গণনায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া।
গণভোটের ফলাফলের বিস্তারিত উল্লেখ করে তিনি জানান যে পরিবর্তনের পক্ষে হ্যাঁ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি এবং বিপক্ষে না ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি। নির্বাচনের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের বিষয়ে সচিব বলেন যে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ফলাফলের হার্ড কপি পাওয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে যত দ্রুত সম্ভব গেজেট প্রকাশ করা হবে। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতার জন্য তিনি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। কমিশন আশা করছে যে খুব দ্রুতই সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নাম গেজেট আকারে প্রকাশ করা সম্ভব হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন