বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

জেনারেল ওসমানীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ

জাতীয় ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ১০:২৪ এএম

জেনারেল ওসমানীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ

জেনারেল এম এ জি ওসমানী

মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ও মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল মোহাম্মদ আতাউল গনি (এম এ জি) ওসমানীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করা এই অকুতোভয় সেনানায়কের পৈতৃক নিবাস সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায়। আজ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এই মহান বীরের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হচ্ছে।

জেনারেল ওসমানীর শিক্ষা জীবন শুরু হয়েছিল পারিবারিকভাবে বাংলা ও ফারসি শিক্ষার মাধ্যমে। পরবর্তীতে ১৯৩৪ সালে সিলেট সরকারি পাইলট স্কুল থেকে কৃতিত্বের সাথে মেট্রিক পাস করে তিনি ‘প্রিটোরিয়া অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। 

উচ্চ শিক্ষার জন্য তিনি আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে বিএ পাস করার পর ১৯৩৯ সালে ব্রিটিশ-ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। মেধাবী ছাত্র হিসেবে ছাত্রজীবনেই তার মধ্যে নেতৃত্ব ও শৃঙ্খলার ছাপ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছিল।

সামরিক জীবনে ওসমানী অসংখ্য নজিরবিহীন রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন। ১৯৪২ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে তিনি ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সর্বকনিষ্ঠ মেজর হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বার্মার রণাঙ্গনে তিনি একটি বিশাল বাহিনীর অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ১৯৫৬ সালে কর্নেল পদে উন্নীত হন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকাকালীন তিনি একজন স্বাধীনচেতা বাঙালি অফিসার হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা সিয়াটো ও সেন্টোতে নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

১৯৬৭ সালে সামরিক বাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর ওসমানী রাজনীতিতে যোগ দেন এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তাকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। তার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও রণকৌশলে মাত্র নয় মাসে বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হয়। ১৯৮৪ সালে লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬৫ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাকে সিলেটের হযরত শাহজালাল (র.) মাজার সংলগ্ন কবরস্থানে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।