ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ১০:১২ পিএম
জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সমাজের প্রকৃত উন্নতির জন্য নারীদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। সোমবার রাত সোয়া ৯টায় দেওয়া এই ভাষণে তিনি স্পষ্ট করেন যে, একটি সমাজ তখনই আধুনিক ও উন্নত হিসেবে গণ্য হয়, যখন সেখানে নারীরা নিরাপদ বোধ করেন এবং সমান অধিকার ভোগ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা মনে করেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া, অর্থনীতি, শিক্ষা ও নেতৃত্বে সমান অংশীদারিত্ব অপরিহার্য। নতুন বাংলাদেশের যে স্বপ্ন ছাত্র-জনতা দেখিয়েছে, সেখানে নারীদের অগ্রযাত্রা ছাড়া লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
নারীদের কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন ড. ইউনূস। তিনি জানান, নারী ও শিশুর সুরক্ষায় ইতিমধ্যে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন করা হয়েছে।
এই নতুন আইনি কাঠামোগুলো কার্যকর হওয়ার ফলে নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরির পথ সুগম হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, রাষ্ট্র যখন আইনগতভাবে নারীদের পাশে দাঁড়ায়, তখন সামাজিকভাবেও তাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়।ভাষণে সাম্প্রতিক গণভোট ও নির্বাচন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি নির্বাচনের পরিবেশকে উৎসবমুখর হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, দেশের সর্বত্র ঈদের মতো আমেজ বিরাজ করছিল, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে।
নির্বাচনে জয়ী ও পরাজিত উভয় পক্ষকেই তিনি অভিনন্দন জানান। গণতন্ত্রের সৌন্দর্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, হার-জিত নির্বাচনে থাকবেই, তবে ভোটারদের আস্থাই বড় কথা। বিজয়ীরা যেমন মোট ভোটের অর্ধেক পেয়েছেন, তেমনি যারা জিততে পারেননি তারাও প্রায় অর্ধেক ভোটারের সমর্থন পেয়েছেন, যা তাদের জন্য একটি বড় প্রাপ্তি।
দীর্ঘ ১৮ মাসের দায়িত্ব পালন শেষে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিদায় নিতে যাচ্ছে বলে ঘোষণা দেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি জানান, খুব শিগগিরই একটি নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে এবং এর মাধ্যমেই বর্তমান সরকারের মেয়াদের সমাপ্তি ঘটবে। একটি গণতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়াকে তিনি বাংলাদেশের নতুন যাত্রার শুরু হিসেবে দেখছেন। দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি একটি সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন