বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

জাতীয় ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ১০:৩০ পিএম

সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ ইউনূসের

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তার দীর্ঘ ১৮ মাসের দায়িত্ব পালন শেষে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া বিদায়ী ভাষণে তিনি বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সেনাবাহিনীর সহযোগিতার কথা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে স্মরণ করেন। 

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী এক অস্থির সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং গণতন্ত্রের পথে উত্তরণে সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও ধৈর্যশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী এক চরম উত্তাল সময়ে যখন রাষ্ট্রযন্ত্র অচল হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা অসীম ধৈর্য ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন। দেশের সাধারণ মানুষ যেন দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে এবং রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা বজায় থাকে, সেজন্য সৈন্যরা নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। 

তিনি মনে করেন, সংকটময় প্রতিটি মুহূর্তে রাজনৈতিক নেতৃত্ব যেভাবে সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন এবং সেনাবাহিনী যেভাবে অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছে, তা বাংলাদেশকে একটি বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছে। এই পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংযমই দেশকে স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যেতে মূল ভূমিকা পালন করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে ড. ইউনূস বিগত স্বৈরশাসনামলের নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরেন। 

তিনি বলেন, ১৬ বছরের শাসনামলে রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা গুম, হত্যা এবং অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আয়নাঘরের মতো বিভীষিকাময় পরিস্থিতি এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তা যেন ভবিষ্যতে আর কখনো ফিরে আসতে না পারে সেজন্য তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। কেবল রাজনৈতিক সদিচ্ছা দিয়ে এটি সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, এর জন্য প্রয়োজন বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল এবং গভীর সংস্কার। এই লক্ষ্য নিয়েই অন্তর্বর্তী সরকার তাদের সংস্কার কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করেছে।

দেশের বিচারিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই ও আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ছিল। বর্তমানে একাধিক ট্রাইব্যুনাল সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং বেশ কিছু মামলার রায় ইতিমধ্যে ঘোষিত হয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের সংস্কৃতির বিচার শুরু হওয়াকে তিনি এক বড় অর্জন হিসেবে দেখেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতেও বিচারিক কার্যক্রম কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ ছাড়াই অত্যন্ত নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছতার সাথে এগিয়ে যাবে। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির মাধ্যমেই জনগণের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

ভাষণের শেষ পর্যায়ে ড. ইউনূস জুলাই সনদের গুরুত্ব ও তাৎপর্য দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন। তিনি এই সনদকে অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেন। জুলাই সনদের ভিত্তিতেই গণভোটে দেশের মানুষ রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে বিপুল রায় দিয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, এই সনদ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সব পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। ১৮ মাসের এই সফরের অনেক ছোটবড় ঘটনা মানুষ ভুলে গেলেও জুলাই সনদের কথা জাতি চিরকাল মনে রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই সনদ প্রণয়ন ও গণভোটে পাশে থাকার জন্য সব রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের প্রতি তিনি অভিনন্দন জানান।