বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

বিদায়বেলায় জাতিকে যে নসিহত করে গেলেন ড. ইউনূস

জাতীয় ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম

বিদায়বেলায় জাতিকে যে নসিহত করে গেলেন ড. ইউনূস

বিদায় নিচ্ছেন ড. ইউনূস

জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক আবেগঘন ও দিকনির্দেশনামূলক ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দুর্নীতিমুক্ত এবং ন্যায়ভিত্তিক এক নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার রাত সোয়া ৯টায় নিজের ১৮ মাসের দায়িত্বকাল শেষে এই ভাষণ দেন তিনি। ভাষণে তিনি অতীতের রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি এবং জালিয়াতির সংস্কৃতির সমালোচনা করে বলেন, এসব অনিয়মই দেশকে দীর্ঘ সময় পিছিয়ে রেখেছিল। 

তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিকভাবে দেশের বিশ্বাসযোগ্যতা ফেরাতে হলে প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। নিয়ম মেনে চলা এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষার মাধ্যমে একটি উন্নত রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি তার নসিহতে উল্লেখ করেন।

ড. ইউনূস তার শাসনামলে অর্জিত গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, গত দেড় বছরে দেশে বাক-স্বাধীনতা, সমালোচনা করার অধিকার এবং ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার যে সংস্কৃতি শুরু হয়েছে, তা যেন কোনোভাবেই হারিয়ে না যায়। একটি কল্যাণমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার পরামর্শ দেন তিনি। 

তার মতে, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও দেশের সার্বভৌমত্ব এবং পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে দল-মত নির্বিশেষে ইস্পাতকঠিন ঐক্য প্রয়োজন। তিনি অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এই গণতান্ত্রিক ধারাকে সামনের দিনগুলোতে আরও সমৃদ্ধ করবে।সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোট ও নির্বাচনের উৎসবমুখর পরিবেশের প্রশংসা করে প্রধান উপদেষ্টা একে ইতিহাসের একটি স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেন। 

নির্বাচনে জয়ী ও পরাজিত সব পক্ষকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, জয়-পরাজয়ই হলো গণতন্ত্রের প্রধান সৌন্দর্য। যারা নির্বাচনে জিততে পারেননি, তাদেরও হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান যে দেশের প্রায় অর্ধেক ভোটার তাদের ওপর আস্থা রেখেছেন। দীর্ঘ ১৮ মাসের কর্মময় সফর শেষে একটি নির্বাচিত সরকারের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের ঘোষণা দিয়ে তিনি তার ভাষণের ইতি টানেন। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।