বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

তারেক রহমানের নেতৃত্বে শপথ নিলেন বিএনপি দলীয় এমপিরা

জাতীয় ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ১০:৫৩ এএম

তারেক রহমানের নেতৃত্বে শপথ নিলেন বিএনপি দলীয় এমপিরা

শপথ নিচ্ছেন তারেক রহমান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা। মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ গ্রহণ কক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটির নির্বাচিত সদস্যরা ঐক্যবদ্ধভাবে এই শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। 

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের এই মাহেন্দ্রক্ষণকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবন এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

বিগত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভের পর আজ থেকেই সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিএনপি। ২০০৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব ছাড়ার দীর্ঘ ২০ বছর পর তারই সুযোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমান আজ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন। 

তাকেই বিএনপির এই ঐতিহাসিক ও ভূমিধস বিজয়ের মূল কারিগর হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, আজ সকালে এমপি হিসেবে শপথ নিলেও গণপরিষদের সদস্য হিসেবে আলাদা যে শপথের কথা ছিল, কৌশলগত কারণে বিএনপি দলীয় এমপিরা এখনই সেই শপথ গ্রহণ করছেন না।নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী আজ ২৯৬ জন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। দেশের ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও দুটি আসনের ফলাফলের গেজেট আইনি জটিলতার কারণে স্থগিত রয়েছে। 

স্থগিত থাকা আসন দুটি হলো চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪। এ ছাড়াও শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোটগ্রহণ সম্ভব হয়নি। বিএনপি প্রধান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬—এই দুটি আসন থেকেই বিজয়ী হয়েছিলেন। তবে নিয়ম অনুযায়ী একটি আসন ছেড়ে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় তিনি গতকাল বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য ঘোষণা করেছেন। ফলে আজ তিনি কেবল ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

সংবিধান অনুযায়ী বিদায়ী সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করায় এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে থাকায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই শপথ পাঠ করানোর দায়িত্ব পালন করেন। শপথ গ্রহণ শেষে বিএনপি ও তার জোটভুক্ত দলগুলোর সংসদ সদস্যরা সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচনের লক্ষ্যে বৈঠকে বসছেন। দলীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, তারেক রহমানকেই আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হবে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন। বিকেল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী ও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি।

নতুন এই মন্ত্রিসভার কলেবর প্রাথমিক পর্যায়ে ৩০ সদস্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে। সরকার গঠনে বিএনপি তাদের জোটের শরিক দলগুলোর নেতাদেরও মূল্যায়ন করতে যাচ্ছে। ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি এবং নুরুল হক নুরের মতো তরুণ ও প্রভাবশালী নেতাদের মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। অন্যদিকে সংসদ উপনেতা হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমেদের নাম জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে নির্বাচনে ৬৮টি আসনে জয়ী হয়ে জামায়াতে ইসলামী সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে। ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধী দলীয় সংসদীয় দল তাদের নেতা ও উপনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।