ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ১১:১১ এএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে এখনই শপথ গ্রহণ করেননি। মঙ্গলবার সকালে সংসদ ভবন এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ দলের এই অবস্থানের কথা জানান।
তিনি স্পষ্ট করেন যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের বিষয়টি সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার পর দলের নীতিনির্ধারকদের আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়াগুলো পর্যালোচনার পরেই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করে বলেন যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের শপথ পাঠ করানোর সুনির্দিষ্ট এখতিয়ার রয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে বা তারা অপারগ হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ কে পরিচালনা করবেন এবং এর আইনি ভিত্তি কী হবে সে বিষয়টি বর্তমান সংবিধানে এখনো সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত নয়। তিনি মনে করেন এই নতুন প্রক্রিয়াটি কার্যকর করতে হলে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনী এবং দ্বিতীয় তফসিলে নির্দিষ্ট ফর্ম তৈরি করা প্রয়োজন।বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা আরও জানান যে সংস্কার পরিষদের শপথ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং সাংবিধানিক ম্যান্ডেট নিশ্চিত হওয়ার পরেই এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা সম্ভব হতে পারে।
মূলত একটি নিয়মতান্ত্রিক ও স্থায়ী সাংবিধানিক কাঠামো নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যরা এখনই এই বিশেষ শপথ গ্রহণ থেকে বিরত রয়েছেন। সালাহউদ্দিন আহমদের মতে সাংবিধানিকভাবে নির্ধারিত পদের বাইরে অন্য কোনো পদের শপথ নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। সংসদীয় কার্যক্রম ও অধিবেশন শুরুর পর রাজনৈতিক ও আইনি দিকগুলো বিবেচনা করে এই বিষয়ে বিএনপি তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।
নতুন সরকারের গঠন প্রক্রিয়া এবং সংসদীয় কার্যক্রম নিয়ে দিনভর নানা আলোচনার মধ্যে বিএনপির এই অবস্থান রাজনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে থাকলেও প্রতিটি পদক্ষেপ যেন সাংবিধানিক নিয়মের মধ্যে থাকে সেদিকেই তারা বেশি নজর দিচ্ছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণকেই তারা অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং বিকেলের মন্ত্রিসভা গঠনের দিকেই সবার নজর এখন নিবদ্ধ রয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন