বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে সার্বভৌমত্ববিরোধী তৎপরতা ছিল

জাতীয় ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ১০:১৬ এএম

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে সার্বভৌমত্ববিরোধী তৎপরতা ছিল

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত ভয়াবহ সেনা হত্যাযজ্ঞের পেছনে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী গভীর ষড়যন্ত্র ও তৎপরতা বিদ্যমান ছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ অভিমত ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৭ বছর আগে এই দিনে বিডিআর সদর দপ্তরে ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল, যা ছিল জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি এবং কলঙ্কজনক অধ্যায়।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বিগত দেড় দশক ধরে এই দিনটির গুরুত্বকে সুপরিকল্পিতভাবে অবজ্ঞা করা হয়েছে এবং যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হয়নি। তবে ২০২৪ সালে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পর থেকে বর্তমান সরকার ২৫ ফেব্রুয়ারিকে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করছে। 

তিনি এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে প্রাণ হারানো সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং দীর্ঘকাল ধরে বিচার ও শোকের ভার বয়ে বেড়ানো পরিবারগুলোর সদস্যদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে এ সংক্রান্ত বিচার কার্যক্রম চলমান থাকায় বিচারাধীন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত বলার সুযোগ নেই। তবে তিনি মনে করেন, এই হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন অপতথ্য ও মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তার মতে, ফ্যাসিবাদমুক্ত বর্তমান বাংলাদেশে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণগুলো এখন জনগণের কাছে অত্যন্ত পরিষ্কার ও বোধগম্য। তিনি মনে করেন, নাগরিক হিসেবে এই ষড়যন্ত্রের গভীরতা উপলব্ধি করা প্রত্যেকের জন্য জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে সশস্ত্র বাহিনীকে একটি স্বাধীন দেশের সম্মান, বীরত্ব এবং গৌরবের প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দেশবাসীকে আহ্বান জানান যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে না পারে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী যেকোনো অপতৎপরতা মোকাবিলায় সরকার ও জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াবে—এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেই তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।