বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,

শহীদ সেনা দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বিনম্র শ্রদ্ধা

জাতীয় ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ১০:৩৩ এএম

শহীদ সেনা দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বিনম্র শ্রদ্ধা

বনানীতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে বনানী সামরিক কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে পিলখানায় শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার সকাল ১০টার পর তারা পৃথকভাবে এই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তারা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে পিলখানা ট্র্যাজেডিতে আত্মোৎসর্গকারী বীর সেনা কর্মকর্তাদের স্মৃতির প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শন করেন। 

এরপর শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এক বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান। এসময় সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে এক গভীর শোক ও বেদনাবিধুর দিন। ১৭ বছর আগে ২০০৯ সালের এই দিনে রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরের (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে এক নৃশংস বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে। সেই বর্বরোচিত ও নির্মম হত্যাযজ্ঞে তৎকালীন বিডিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাকে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়।

ঘাতকদের হাত থেকে সেদিন রেহাই পাননি জেনারেল শাকিলের স্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিকও। ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলা সেই ধ্বংসাত্মক ও পৈশাচিক ঘটনায় সব মিলিয়ে ৭৪ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন, যা দেশের সামরিক বাহিনীর ইতিহাসে এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।বনানী কবরস্থানে আয়োজিত এই শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে এক শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। 

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও জাতির হৃদয় থেকে সেই ক্ষত আজও মুছে যায়নি। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এই দিনটিকে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস হিসেবে যথাযোগ্য গুরুত্বের সাথে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়ায় অংশ নেওয়া শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত শহীদ পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। 

সরকারের পক্ষ থেকে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার যে পুনরায় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, আজকের এই শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানটি সেই প্রতিশ্রুতিরই একটি অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে সারাদেশে বিজিবি ও সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটে বিশেষ দোয়া ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।