বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,

ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন না যে ৬ শ্রেণির মানুষ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ১০:৪৭ এএম

ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন না যে ৬ শ্রেণির মানুষ

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি ২০২৬

দেশের দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে নির্বাচিত পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১০ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন বলে সরকার প্রধানের কার্যালয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। 

প্রাথমিকভাবে দেশের ১৪টি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই কার্যক্রম শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে এটি সারাদেশে বিস্তৃত করা হবে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এই কর্মসূচি পরিচালনার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন-২০২৬’ শীর্ষক একটি নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে, যেখানে স্পষ্ট করা হয়েছে কারা এই সুবিধা পাবেন এবং কারা এই তালিকা থেকে বাদ পড়বেন।

সরকারের এই নতুন নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট ৬ ধরনের মানুষ বা পরিবার এই ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধার বাইরে থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে এমন পরিবার যার কোনো সদস্য সরকারি পেনশন ভোগ করছেন। 

পাশাপাশি বাড়িতে এয়ার কন্ডিশনার বা এসি ব্যবহারকারী, ব্যক্তিগত গাড়ি বা বিলাসবহুল সম্পদের মালিক এবং সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ব্যক্তিদের পরিবার এই কার্ড পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবে না। এছাড়া বড় কোনো ব্যবসার মালিকানা থাকা এবং উচ্চ আয়ের মানুষও এই সরকারি সহায়তার আওতামুক্ত থাকবে। মূলত সমাজের প্রকৃত অভাবী ও অসহায় মানুষের কাছে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দিতেই এই কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। 

কার্ড প্রদানের ক্ষেত্রে ভূমিহীন, গৃহহীন, প্রতিবন্ধী সদস্য থাকা পরিবার এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠী যেমন হিজড়া, বেদে ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে বিশেষ অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে।ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সুবিধাভোগী প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা পাবে। এই কর্মসূচির একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো নগদ অর্থ সরাসরি পরিবারের নারী সদস্য বা গৃহকর্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হবে, যা নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সরকার। 

স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং অনিয়ম রোধে জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ড পর্যায়ে সরেজমিন যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে কার্ড ইস্যু করা হবে। সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, নির্বাচনের ইশতেহার অনুযায়ী এই জনকল্যাণমূলক কাজ শুরু করা হচ্ছে এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই প্রাথমিক পর্যায়ের কার্ড বিতরণ সম্পন্ন হবে।

নির্ধারিত পাইলট কার্যক্রম শেষে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর কার্যালয়ের মাধ্যমে আবেদন ফরম সংগ্রহ করা যাবে। এছাড়া একটি ডেডিকেটেড অনলাইন পোর্টাল চালুর প্রক্রিয়াও বর্তমানে চলমান রয়েছে। আগ্রহী আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র, রঙিন ছবি এবং একটি সচল মোবাইল নম্বর সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর তুলনায় এই ফ্যামিলি কার্ডের সহায়তার পরিমাণ বেশি রাখা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে বাজার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সহায়তার পরিমাণ ও পণ্য সরবরাহের সীমা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।