বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নতুন কোনো তদন্ত কমিশন হবে না

জাতীয় ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ১১:২৬ এএম

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নতুন কোনো তদন্ত কমিশন হবে না

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন করে কোনো তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, পূর্বের স্বাধীন তদন্ত কমিশন যেসব সুপারিশ প্রদান করেছে, সরকার বর্তমানে সেগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে এবং এই নৃশংস ঘটনার যথাযথ বিচার নিশ্চিতে গুরুত্বের সাথে কাজ করছে। 

বুধবার সকালে বনানী সামরিক কবরস্থানে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি সরকারের এই অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন। পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর পূর্ণ হওয়ার এই দিনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে আমি নিশ্চিত করছি যে, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যথাযথ ও স্বচ্ছ বিচার সম্পন্ন করা হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের কলঙ্কজনক ঘটনা যাতে আর কখনো না ঘটে, সে লক্ষ্যে সরকার বদ্ধপরিকর। 

তিনি মন্তব্য করেন যে, ২০০৯ সালের সেই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে মূলত বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকেই দুর্বল করার একটি গভীর অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। যারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না, তারাই এমন ভয়ংকর এবং দেশবিরোধী কাজ করতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, আজ আমরা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শহীদ সেনা দিবস পালন করছি। বনানী সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং উপস্থিত হয়ে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। 

শোকাতুর পরিবারের সদস্যরাও তাদের প্রিয়জনদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তারা জাতির হৃদয়ে চিরতরুণ ও চিরভাস্বর হয়ে থাকবেন। তাদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।পিলখানা হত্যাকাণ্ডকে শুধু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নয়, বরং বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম নৃশংসতম হত্যাকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। 

তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ঘটনার বিচারিক প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন করা এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটানোই এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। সুপারিশগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের স্বরূপ উন্মোচন করে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও তিনি জোর দেন।