ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
পিলখানা হত্যাকাণ্ডকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নস্যাতের একটি সুপরিকল্পিত অপপ্রয়াস হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার সন্ধ্যায় ‘জাতীয় শহিদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির এই মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে একটি গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে যার বেদনা আজও জাতি বয়ে বেড়াচ্ছে।
এই দিনটিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব এবং ইতিহাসে একে যথাযথ সম্মান না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বর্তমানকে ক্ষমা করবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানে শাহাদাতবরণকারী ছাত্র-জনতাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। বিশেষ করে পিলখানায় নিহত ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর এই প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে তার কণ্ঠ ভারি হয়ে আসছে।
তিনি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং একজন সেনা পরিবারের সদস্য এবং সহযোদ্ধার সন্তান হিসেবে শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। বিগত বছরগুলোতে শহীদ পরিবারগুলোর বিচার না পাওয়ার নিদারুণ যন্ত্রণার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এই স্মৃতিকে অম্লান রাখতে বিশেষ গুরুত্বের সাথে কাজ করবে।সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গৌরবোজ্জল ইতিহাসের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতার ঘোষণার সময় থেকে এই বাহিনীর অবদান অবিস্মরণীয়।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই বাহিনীকে সুসংহত করতে এবং সামরিক কায়দায় নতুন করে পুনর্গঠিত করতে যে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছিলেন, তা আজ ঐতিহ্যের অংশ। বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতায় দেশের সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করার উদ্যোগ গ্রহণ করবে। সদস্যদের দেশপ্রেম ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে বহির্বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও সভায় তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান আরও উল্লেখ করেন যে, পিলখানার সেই ঘটনা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছিল। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সময়োপযোগী ও আধুনিক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সাথে শহীদ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে তাদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের জন্য স্থায়ী সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমান সরকার জনগণের রায়ে নির্বাচিত হওয়ায় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোনো আপস করবে না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন