বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,

সীমান্ত বাহিনীকে আরো আধুনিক করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম

সীমান্ত বাহিনীকে আরো আধুনিক করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

সভায় প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন যে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। তিনি মনে করেন এই ইতিহাসকে যথাযথ মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। বুধবার বিকেলে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। 

উক্ত সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধানগণ এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালকসহ সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় শাহাদাত বরণকারী ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন বীর শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

তারেক রহমান পিলখানার এই নির্মম ঘটনাকে জাতীয় জীবনের এক গভীর ক্ষত হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন যে ১৭ বছর আগে ঘটে যাওয়া সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের আর্তনাদ আজও বাতাসে ভেসে আসে এবং আমাদের হৃদয় গভীর বেদনায় ভারাক্রান্ত করে তোলে। 

তিনি নিজেকে কেবল একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয় বরং একজন সেনা পরিবারের সদস্য এবং সহযোদ্ধার সন্তান হিসেবে উপস্থিতদের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন যে দেশে প্রত্যাবর্তনের পর শহীদদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি উপলব্ধি করেছেন গত ১৭ বছর ধরে শহীদ পরিবারগুলো কী পরিমাণ দুসহ সংগ্রাম এবং বিচার না পাওয়ার নিদারুণ যন্ত্রণা সহ্য করেছেন। প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন যে সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে পিলখানার স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করবে।

দেশের সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করার পরিকল্পনার কথা বিশেষ গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন যে ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে এই বাহিনীর যে পুনর্গঠন ও আধুনিকায়ন শুরু হয়েছিল সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান নির্বাচিত সরকার সীমান্ত রক্ষীদের পেশাগত উৎকর্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ করবে। তারেক রহমান মনে করেন পিলখানার মর্মান্তিক ঘটনাটি মূলত বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নস্যাতের একটি সুপরিকল্পিত অপপ্রয়াস ছিল। 

এই ঘটনার পরিক্রমায় জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর যে দুর্বলতাগুলো ফুটে উঠেছিল তা কাটিয়ে উঠতে বহির্বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও সময়োপযোগী করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন যে মাহে রমজানের এই সংযম ও আত্মশুদ্ধির সময়ে তিনি শহীদ পরিবারগুলোর কল্যাণে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছেন। বিশেষ করে শহীদ সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও যথাযথ পুনর্বাসনের দায়িত্ব সরকার বহন করবে। 

তারেক রহমান স্মরণ করেন যে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি সংকটে সেনাবাহিনীর রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। জাতীয় স্বার্থে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ন্যায়, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের পথে পরিচালিত করতে তার সরকার বদ্ধপরিকর। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সঠিক ইতিহাস ও শহীদদের আত্মত্যাগ জাতি যেন কখনো ভুলে না যায় সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।