ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শুরু হলো বাঙালির প্রাণের উৎসব অমর একুশে বইমেলা ২০২৬। বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রকাশকদের বিভিন্ন দাবি এবং তিন দফা তারিখ পরিবর্তনের পর নানা আলোচনা-সমালোচনা পেছনে ফেলে শেষ পর্যন্ত বইপ্রেমীদের জন্য উন্মুক্ত হলো এই বর্ণিল সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গণ।
এবারের মেলা পবিত্র রমজান মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ায় মেলা ঘিরে বাড়তি প্রস্তুতি ও বিশেষ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।পবিত্র মাহে রমজানের সংযম ও আত্মশুদ্ধির আবহে বইমেলা আয়োজন নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
রুহামা পাবলিকেশনের স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম মনে করেন, রমজান মাসে মেলা আয়োজন একটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। জ্ঞানচর্চার জন্য একটি সুশৃঙ্খল ও পবিত্র পরিবেশ প্রয়োজন, যা এ বছরের রমজানের আবহ নিশ্চিত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তবে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন প্রগতি পাবলিকেশনের প্রকাশক আশরার মাসুদ। তাঁর মতে, রমজানের কারণে মেলা সেভাবে জমে না ওঠার আশঙ্কা রয়েছে, যা প্রকাশকদের ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে। এমন পাল্টাপাল্টি মতামতের মধ্যেই পাঠকদের বরণ করে নিতে প্রস্তুত করা হয়েছে স্টলগুলো।বইমেলা ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ তিন স্তরের সুরক্ষা বলয় গড়ে তুলেছে। যদিও মেলাকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো নিরাপত্তা হুমকির তথ্য নেই, তবে ডিএমপি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সরওয়ার জানিয়েছেন যে মেলা প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় ২৪ ঘণ্টা পুলিশি নজরদারি কার্যকর থাকবে। বিশেষ করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে বা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে এমন কোনো বিতর্কিত প্রকাশনা মেলায় পাওয়া গেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে ডিবি, সিটিটিসি এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের মতো বিশেষায়িত দলগুলো সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।
মেলা চলাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ট্রাফিক বিভাগ পৃথক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত সড়কটি দর্শনার্থীদের ভিড় বিবেচনায় সময়ভেদে বন্ধ বা খোলা রাখা হবে। মেলা প্রাঙ্গণে যাতায়াতের জন্য নীলক্ষেত, শাহবাগ ও দোয়েল চত্বর থেকে আগত যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট ডাইভারশন রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। ফুলার রোড ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকায় অনুমোদিত পার্কিং ব্যবস্থা থাকলেও নো-পার্কিং জোনে গাড়ি রাখলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এবারের বইমেলাকে পরিবেশবান্ধব রাখতে পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমির সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণের প্রতিটি কোণে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। সব মিলিয়ে একটি উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে পাঠকরা বই সংগ্রহ করতে পারবেন বলে আয়োজক কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করছে। প্রধানমন্ত্রী তার উদ্বোধনী বক্তব্যে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এই মেলা যেন নতুন প্রজন্মের মেধা বিকাশে সহায়ক হয় সেই কামনা করেছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন