ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম
সংবিধান সংস্কার বা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলে বড় ধরনের সংশোধনী আনার কারণ ব্যাখ্যা করেছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, করণিক ভুল ও ট্রান্সপজিশন এরর বা সংখ্যা স্থানান্তরের ভুলের কারণে পূর্বের ফলাফলে অসংগতি ছিল।
যা পরবর্তীতে মাঠ পর্যায় থেকে প্রাপ্ত সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সংশোধন করে নতুন গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। সচিবের মতে, হাতে কলমে কাজ করার সময় এ ধরণের মানবিক ভুল হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে এই সংশোধনীর ফলে ভোটের মূল রায়ে কোনো প্রভাব পড়েনি।
সংশোধিত গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, গণভোটে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি কমেছে। এর মধ্যে হ্যাঁ ভোটের সংখ্যা ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০টি কমে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০টিতে। অন্যদিকে না ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫টি কমে সর্বশেষ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১টিতে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বৈধ ভোট কমলেও বাতিল করা ভোটের সংখ্যা আগের চেয়ে ১২ হাজার ৫৫৯টি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে বাতিলকৃত ভোট বাদে মোট বৈধ ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ২১১ জন।ইসি সচিব আখতার আহমেদ আরও স্পষ্ট করেন যে, আগের প্রকাশিত ফলে যান্ত্রিক ও করণিক ত্রুটি থাকলেও হ্যাঁ এবং না ভোটের যে ব্যবধান বা মূল ফলাফল, সেখানে কোনো বিচ্যুতি ঘটেনি। হ্যাঁ ভোটের সংখ্যা এখনো সংখ্যাগরিষ্ঠ পর্যায়েই রয়েছে। মূলত মাঠ পর্যায় থেকে পাঠানো তথ্যের সঙ্গে কেন্দ্রীয় হিসেবের সমন্বয় করতে গিয়েই এই পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই কমিশন ভুল সংশোধন করে নতুনভাবে অতিরিক্ত গেজেট প্রকাশ করেছে।
উল্লেখ্য যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একযোগে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। দেশের ২৯৯টি আসনে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হলেও একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে ভোট স্থগিত ছিল। জুলাই জাতীয় সনদের সাংবিধানিক বৈধতা অর্জনে এই গণভোটের ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশোধিত এই গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে এখন গণভোটের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান নিশ্চিত হলো। সরকারের পক্ষ থেকে এই ফলাফলকে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন