মার্চ ২, ২০২৬, ০১:৪৩ পিএম
সচিবালয়ে আজ সোমবার দুপুরে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুর মুক্তাদির গণমাধ্যমকে ব্রিফ করেন। তিনি জানান, প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও গতিশীল করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার। দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী বাণিজ্যিক ভিত্তি থাকলেও তা আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বৈঠকে ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও প্রযুক্তির আদান-প্রদানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রয়েছে।
এর মধ্যে আমদানি ৯.৫ বিলিয়ন ডলার এবং রপ্তানি ১.৫ বিলিয়ন ডলার। এই বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করতে রপ্তানি বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা বর্ডার হাটগুলো পুনরায় চালু করা এবং ল্যান্ড বর্ডারগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে বৈঠকে গুরুত্বারোপ করা হয়।
ভারতের পক্ষ থেকে তাদের নবনির্মিত সাবরুম ল্যান্ড পোর্ট ব্যবহারের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বেনাপোলসহ অন্যান্য স্থলবন্দরের কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত করার বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে।এলডিসি বা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ বা ইআরডি ইতোমধ্যে জাতিসংঘে আবেদন পাঠিয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে হরমোজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলেও এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
মন্ত্রী জানান, দীর্ঘমেয়াদে এই রুট বন্ধ থাকলে পণ্য পরিবহনে জাহাজ ভাড়া বাড়তে পারে, তবে বর্তমানে দেশে নিত্যপণ্য বা জ্বালানি আমদানিতে কোনো ধরনের শঙ্কার কারণ নেই। সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে এই বৈঠককে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে মন্ত্রী বলেন, আজকের এই আলোচনা আগামী দিনে বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে এবং দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সহায়ক হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন