বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

শাহজালাল বিমানবন্দরে তিন দিনে ১০২ ফ্লাইট বাতিল

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ২, ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম

শাহজালাল বিমানবন্দরে তিন দিনে ১০২ ফ্লাইট বাতিল

বিমানবন্দরে ফ্লাইট জট

মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের আকাশপথে। গত তিন দিনে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ১০২টি ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। আজ সোমবার দুপুর পর্যন্ত নতুন করে আরও ৩৯টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। 

উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে বাতিল হওয়া ফ্লাইটের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই অচলাবস্থায় প্রথম দিন ২৩টি এবং রোববার ৪০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। আজ সোমবার দুপুরের মধ্যেই সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে আরও ৩৯টি ফ্লাইট। 

আকাশপথের এই স্থবিরতায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার বিদেশগামী যাত্রী এবং দেশে ফিরতে ইচ্ছুক প্রবাসীরা। তবে শনিবারের তুলনায় সোমবার বিমানবন্দরে যাত্রীদের উপস্থিতির চাপ কিছুটা কম দেখা গেছে। 

অধিকাংশ যাত্রী এখন অনলাইন বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে ফ্লাইটের সর্বশেষ আপডেট জেনেই বিমানবন্দরে আসছেন।সকাল থেকে কয়েকটি আন্তর্জাতিক রুটে সীমিত পরিসরে বিমান চলাচল শুরু হওয়ায় অপেক্ষমাণ যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও অনিশ্চয়তা কাটেনি। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা ব্যবহারকারী এয়ারলাইন্সগুলো মূলত নিরাপত্তার স্বার্থে ফ্লাইট পরিচালনা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখছে। 

তবে যাত্রীদের অভিযোগ, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বা সরকারের পক্ষ থেকে ভোগান্তি লাঘবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার যথাযথ প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। অনেক যাত্রী খাবার বা পর্যাপ্ত বিশ্রামের সংকটে পড়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক রুটের এই বিশৃঙ্খলা নিরসনে কারিগরি ও কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। 

তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত না হওয়া পর্যন্ত আকাশপথে স্বাভাবিক শিডিউল ফিরে আসা নিয়ে সংশয় কাটছে না। বিমানবন্দরে আসার আগে যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের বর্তমান অবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নতুন কোনো নির্দেশনা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।