মার্চ ৩, ২০২৬, ১১:১১ এএম
‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং এর কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে করা রিট আবেদনের ওপর আজ মঙ্গলবার আদেশ দেবেন হাইকোর্ট। গত সোমবার শুনানির পর বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের জন্য এই দিন ধার্য করেন। এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি পিছিয়ে ১ মার্চ দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. দেলোয়ার হোসেন খান।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশেষ করে এই সনদের অধীনে আয়োজিত গণভোটকে অসাংবিধানিক ও অবৈধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রিটকারীর দাবি, জুলাই সনদের মাধ্যমে নেওয়া উদ্যোগগুলো সংবিধানের ৬৫, ১২৩ এবং ৩১ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী।
এছাড়া এটি রিপ্রেজেন্টেশন অফ দ্য পিপল অর্ডার বা আরপিও-এর ১১ অনুচ্ছেদকেও লঙ্ঘন করে। রিটে এই সনদ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে এবং রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সনদের কার্যক্রম স্থগিত রাখার আরজি জানানো হয়েছে।২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমূল সংস্কারের উদ্যোগ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।
এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৭ অক্টোবর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ স্বাক্ষরিত হয়। এই সনদটি রাষ্ট্রের সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের একটি মূল রাজনৈতিক দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। তবে শুরু থেকেই এই সনদের আইনি ভিত্তি ও সাংবিধানিক অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক ছিল। আজকের আদেশের ওপর নির্ভর করছে এই সংস্কার দলিলের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম এবং এর আওতায় নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের আইনি বৈধতা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন