মার্চ ৩, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম শাহীনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোট এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা পৃথক দুটি রিটের শুনানি শেষে আদালত এই আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী রেদোয়ান-ই খোদা রনি এবং অ্যাডভোকেট গাজী মো. মাহবুব আলম জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ বাতিল এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ অবৈধ ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে রিট দুটি দায়ের করেন।
এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি একই বিষয়ে অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ জনস্বার্থে আরও একটি রিট দায়ের করেছিলেন। সেখানেও জুলাই জাতীয় সনদ বাতিল ও একে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছিল। ওই রিটে জুলাই সনদের কার্যকারিতা স্থগিতের আবেদনও করা হয়েছিল।
আদালত তার রুলে জুলাই সংস্কার অধ্যাদেশ এবং প্রস্তাবিত গণভোটের আইনি ভিত্তি ও সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, জাতীয় ঐক্যমত কমিশন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার যে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ এবং সংস্কার কার্যক্রমের উদ্যোগ নিয়েছিল, এই রুলের মাধ্যমে সেগুলোর আইনি ভিত্তি এখন উচ্চ আদালতের পর্যালোচনার অধীনে এল।
হাইকোর্টের এই রুল জারির ফলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংস্কার প্রক্রিয়ায় নতুন আইনি ও রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আদালতের এই আদেশের প্রেক্ষিতে তাদের জবাব দাখিলের প্রস্তুতি শুরু করেছে। জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত এই সনদের ওপর রিট আবেদনের এই শুনানি ও রুল জারি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন