বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

ঢাকা বিমানবন্দরে আজ ৩৮ ফ্লাইট বাতিল, বিপাকে যাত্রীরা

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ৩, ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম

ঢাকা বিমানবন্দরে আজ ৩৮ ফ্লাইট বাতিল, বিপাকে যাত্রীরা

বাতিল ফ্লাইটের তালিকা

ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যগামী ৩৮টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে আকাশপথের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলো এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোগ বিভাগ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। 

মূলত যুদ্ধপরিস্থিতির কারণে ওই অঞ্চলের আকাশপথ ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় বিমান চলাচলে এই অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।বেবিচকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ কাউছার মাহমুদ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, আকাশপথ বন্ধ থাকার কারণে গত কয়েক দিনে ধারাবাহিকভাবে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা বাড়ছে। 

২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি এবং ২ মার্চ ৪৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছিল। আজকের ৩৮টিসহ গত চার দিনে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে মোট ১৪৭টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। 

এতে হাজার হাজার যাত্রী বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যগামী প্রবাসীরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। এয়ারলাইনসগুলো নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত স্বাভাবিক চলাচল সম্ভব হচ্ছে না।আজকের বাতিল হওয়া ফ্লাইটের তালিকায় এয়ার অ্যারাবিয়ার ১২টি ফ্লাইট রয়েছে যা এককভাবে সর্বোচ্চ। এছাড়া কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস, গালফ এয়ার এবং ফ্লাই দুবাইয়ের ৪টি করে ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। 

কুয়েত এয়ারওয়েজের ২টি, জাজিরা এয়ারওয়েজের ৪টি এবং দেশীয় বেসরকারি এয়ারলাইনস ইউএস-বাংলার ৪টি ফ্লাইটও এই তালিকায় রয়েছে। বর্তমানে কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, আবুধাবি, শারজাহ ও দুবাই ছাড়া অন্যান্য রুটে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট চলাচল শুরু হলেও মধ্যপ্রাচ্যের এই প্রধান গন্তব্যগুলো এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

এদিকে ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ফ্লাইট বাতিলের খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার সকালে সেখানে ৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়। সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। দুই বিমানবন্দরের এই পরিস্থিতিতে ভোগান্তি নিরসনে এয়ারলাইনসগুলো যাত্রীদের রিফান্ড বা টিকিট পুনর্নির্ধারণের সুযোগ দিচ্ছে। তবে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক আকাশপথে এই শিডিউল বিপর্যয় আরও কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।