মার্চ ৫, ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
আওয়ামী লীগ মনোনীত বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তাঁর নির্ধারিত পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে দেশের রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। বিশেষ করে বর্তমানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে রাজনৈতিক সমীকরণে তাঁর অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
তিনি কি শেষ পর্যন্ত তাঁর পুরো মেয়াদ সম্পন্ন করতে পারবেন নাকি কোনো বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের মুখে পড়বেন তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল দেখা দিয়েছে। তবে এই জটিল পরিস্থিতিতে বিএনপির পক্ষ থেকে একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যা বর্তমান রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে বহাল থাকার সম্ভাবনাকে জোরালো করছে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি এই বিষয়ে সরাসরি বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে এই মুহূর্তে নতুন কোনো রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে বিএনপি কোনো চিন্তা করছে না।
তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন হয়তো সংবিধান অনুযায়ী তাঁর নির্ধারিত মেয়াদ পূর্ণ করার সুযোগ পেতে পারেন। মির্জা ফখরুলের এই অবস্থান রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে কারণ এটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদের স্থিতিশীলতার দিকে একটি ইতিবাচক সংকেত বহন করে। প্রধান রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে এমন মন্তব্য আসার পর জল্পনা কিছুটা হলেও থিতিয়ে এসেছে।সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে যখন প্রশ্ন করা হয় যে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর নাম বিবেচনায় আছে কিনা তখন তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন।
তিনি জানতে চান কেন এখনই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন হচ্ছে যেখানে বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি। তাঁর এই মন্তব্যকে অনেক রাজনীতিকই অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করছেন যা পরোক্ষভাবে বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পূর্ণ করার প্রতি এক ধরনের মৌন সমর্থন হিসেবে গণ্য হতে পারে। বর্তমানে দেশের যে সাংবিধানিক কাঠামো রয়েছে তাতে রাষ্ট্রপতির পরিবর্তন বা অপসারণ একটি সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়।
উল্লেখ্য যে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পাঁচ বছরের নির্ধারিত মেয়াদ আগামী ২০ dossiers ২৮ সালের ২৪ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে রাজনৈতিক কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন না ঘটলে এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে সমঝোতা থাকলে তাঁর মেয়াদ শেষ করা নিয়ে আইনি কোনো বাধা নেই। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে আসা এই নমনীয় মনোভাবের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আপাতত রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে চলা অস্থিরতা প্রশমিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতের সিদ্ধান্তগুলো নির্ধারিত হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন