বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ১০, ২০২৬, ০১:১০ পিএম

সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য: প্রধানমন্ত্রী

ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বনানী টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। 

নারীদের স্বাবলম্বী ও ক্ষমতায়ন করতে পারলেই দেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এই লক্ষ্য অর্জনে আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের ৪ কোটি পরিবারের কাছে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার এক উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সুবিধাভোগীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন যে আগামী মাসের মধ্যেই কৃষকদের সহায়তার জন্য ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রম শুরু করা হবে। বর্তমান সরকার তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। 

প্রাথমিক পর্যায়ে এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি দেশের ১৪টি সুনির্দিষ্ট স্থানে চালু করা হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকার কড়াইল ও ভাসানটেক বস্তি ছাড়াও রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পটিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, নাটোরের লালপুর এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের মতো এলাকাগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত নারীপ্রধান পরিবারগুলো প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাবেন।

এই কর্মসূচির জন্য সুবিধাভোগী নির্বাচনে সরকার আধুনিক প্রযুক্তি ও অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে। তথ্য সংগ্রহের জন্য সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতিটি পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা এবং সদস্য সংখ্যাসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছে। সংগৃহীত তথ্যাদি সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে দারিদ্র্য সূচক নির্ধারণ করা হয়েছে। 

প্রাথমিকভাবে প্রায় ৬৮ হাজার পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও কঠোর যাচাই-বাছাই শেষে কেবল প্রকৃত অভাবী পরিবারগুলোকে চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়েছে। বিশেষ করে যারা ইতিমধ্যে সরকারি চাকরি বা অন্য কোনো পেনশন সুবিধা পাচ্ছেন, তাদের এই তালিকা থেকে বাদ দিয়ে প্রকৃত হকদারদের জায়গা দেওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন নারীপ্রধানকে এই ভাতার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।