মার্চ ১৯, ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাতে না উঠে রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসভবনেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুরে যমুনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়িতেই থাকতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।
দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে অবস্থানের পর গত ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি সপরিবারে ওই বাসায় অবস্থান করছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর আবাসন হিসেবে সেটি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে।গুলশানের এই ১৯৬ নম্বর বাড়িটির একটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে।
১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তার স্ত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে এই বাড়িটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে যমুনা ভবনটি সংস্কার করে প্রধানমন্ত্রীর বসবাসের জন্য প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তারেক রহমান সেখানে না ওঠার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য যে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই ভবনটিকে তার সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।অতিরিক্ত প্রেস সচিব রুমন আরও জানান যে, প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে বসবাস না করলেও রাষ্ট্রীয় সব গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম এবং দাপ্তরিক কাজ যমুনা ভবন থেকেই পরিচালিত হবে। ইতোমধ্যে সেখানে বিভিন্ন সময় কূটনীতিবিদ ও আলেমদের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত মূলত তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা বেগম খালেদা জিয়ার ধারাবাহিকতারই অংশ। তারা দুজনেই রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকাকালীন বা বিরোধীদলে থাকা অবস্থায় সরকারি বাসভবনের পরিবর্তে ব্যক্তিগত আবাসে থাকতেই পছন্দ করতেন।আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ সময়সূচিও জানিয়েছেন আতিকুর রহমান রুমন।
ঈদের দিন সকাল আটটায় তিনি জাতীয় ঈদগাহে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। এরপর সকাল ১০টা থেকে যমুনা ভবনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর গুলশান আবাসের সংলগ্ন ‘ফিরোজা’ ভবনে তার মা খালেদা জিয়াও অবস্থান করছেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রপ্রধানের নিরাপত্তা ও দাপ্তরিক কাজের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই গুলশান ও যমুনার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন