বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সরকারের কঠোর নির্দেশনা জারি

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ২৯, ২০২৬, ০৮:২১ পিএম

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সরকারের কঠোর নির্দেশনা জারি

সরকারি অফিসের নতুন নিয়ম

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য অত্যন্ত কঠোর ও সুনির্দিষ্ট নতুন নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। রোববার জারি করা এই পরিপত্রের মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে দায়িত্বশীল হওয়ার পাশাপাশি অফিস সময় নিয়েও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। 

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি কার্যদিবসে সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সকল কর্মকর্তাকে আবশ্যিকভাবে নিজ নিজ অফিস কক্ষে অবস্থান করতে হবে। ইতিপূর্বে এই বিষয়ে নির্দেশনা থাকলেও এর ব্যত্যয় ঘটায় সরকার পুনরায় কড়া বার্তা প্রদান করল। 

সাশ্রয়ী আচরণের অংশ হিসেবে দিনের বেলা পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহারে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এ লক্ষ্যে জানালা ও দরজা কিংবা ব্লাইন্ড খোলা রেখে সূর্যের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অফিস চলাকালীন শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় সংখ্যক লাইট, ফ্যান এবং এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বিশেষ করে এয়ার কন্ডিশনার বা এসি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার উপরে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া অফিস কক্ষ ত্যাগ করার সময় বাতি, ফ্যান ও এসিসহ সকল বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। অফিসের করিডোর, সিঁড়ি কিংবা ওয়াশরুমের মতো জায়গাগুলোতে অপ্রয়োজনীয় বাতি জ্বালিয়ে রাখা যাবে না। 

অফিস সময় শেষ হওয়ার পর কম্পিউটার, প্রিন্টার ও স্ক্যানারের মতো যন্ত্রপাতিগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা এবং সরকারি বিশেষ অনুমতি ব্যতীত যেকোনো ধরনের আলোকসজ্জা পরিহার করার জন্য সকল দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়ম যথাযথভাবে পালন ও তদারকির জন্য প্রতিটি দপ্তরে নিজস্ব ভিজিল্যান্স টিম গঠনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি জ্বালানি তেলের বিপণন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে দেশব্যাপী প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পৃথক এক পরিপত্রের মাধ্যমে এসব কর্মকর্তাদের কর্মপরিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। ট্যাগ অফিসাররা প্রতিদিন পাম্পের জ্বালানি মজুত রেকর্ড করবেন এবং ডিপো থেকে আসা তেলের পরিমাণ সঠিকভাবে রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ হচ্ছে কি না তা তদারকি করবেন। 

ডিসপেন্সিং মেশিনের মিটার রিডিং যাচাই করে বিক্রয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করা এবং প্রতিদিন অন্তত তিনবার মজুত পরিস্থিতি আপডেট করা তাদের প্রধান দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।নতুন এই ব্যবস্থা অনুযায়ী, ডিপো থেকে জ্বালানি গ্রহণের এক ঘণ্টার মধ্যে পাম্পে বিক্রি শুরু করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিক্রি শুরু না করলে তা নিয়ম লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট পাম্পের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা কিংবা সাময়িক স্থগিতাদেশের মতো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

ট্যাগ অফিসারদের প্রতিদিনের তদারকি প্রতিবেদন জিও-ট্যাগযুক্ত ছবিসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করতে হবে। মাঠ পর্যায়ে জ্বালানি তেল গ্রহণ, মজুত এবং বিক্রির প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এই নির্দেশনাসমূহ অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।