রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

সংসদ সদস্যদের খেলাপি ঋণ ৩৩৩০ কোটি টাকা

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ৬, ২০২৬, ০৬:০১ পিএম

সংসদ সদস্যদের খেলাপি ঋণ ৩৩৩০ কোটি টাকা

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু

বর্তমান জাতীয় সংসদের সদস্য এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিতে ঋণের পাহাড় জমেছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন যে এই ঋণের মোট পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। আজ সোমবার তেরোতম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন। 

সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এই পরিসংখ্যান পেশ করেন।সংসদ অধিবেশনে উপস্থাপিত তথ্যানুযায়ী ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণের মধ্যে ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। 

তবে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার কারণে এই বিশাল অংকের খেলাপি ঋণকে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাপি হিসেবে দেখানো সম্ভব হয়নি। 

আইনি প্রক্রিয়ার কারণে এই অর্থ আদায় বা তালিকায় অন্তর্ভুক্তিতে বিশেষ সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত ঋণের পাশাপাশি তাদের মালিকানাধীন বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নেওয়া ঋণও এই হিসেবের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।আজকের সংসদ অধিবেশনটি ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা বারবার পুনর্ব্যক্ত করেন। 

সংসদ সদস্যদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ঋণের এই চিত্র সামনে আসায় অধিবেশনে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে বিশেষ কৌতূহল সৃষ্টি হয়। অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যে দেশের প্রধান আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংসদ সদস্যদের প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের একটি সামগ্রিক চিত্র ফুটে উঠেছে।সংশ্লিষ্ট মহলের মতে সংসদ সদস্যদের বিশাল অংকের এই খেলাপি ঋণ আদায়ে আইনি জটিলতা নিরসন করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। 

অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে জানিয়েছেন যে আদালতের স্থগিতাদেশ বা নির্দেশনার কারণে অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো পাওনা টাকা আদায়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না। তবে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিতভাবে এই অর্থ পুনরুদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষায় খেলাপি ঋণের লাগাম টেনে ধরা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আজকের অধিবেশনে দেওয়া এই তথ্যগুলো দেশের আর্থিক খাতের সংস্কার প্রক্রিয়ায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।