বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

‘বিরোধী দলে মুক্তিযোদ্ধা নাই’ প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্যে স্পিকারের জবাব

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ৭, ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম

‘বিরোধী দলে মুক্তিযোদ্ধা নাই’ প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্যে স্পিকারের জবাব

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সরকারি দলের বেঞ্চে অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা থাকলেও বিরোধী দলের বেঞ্চে তাঁদের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তবে প্রতিমন্ত্রীর এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে এর পাল্টা জবাব দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) নিজেই। 

স্পিকার বিরোধী দলের সারিতে থাকা এক বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রীর তথ্য সংশোধন করে দেন।আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। 

তিনি তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন যে, সরকারি দলের সারিতে মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের অনেক বীর সেনানীরা উপস্থিত থাকলেও বিরোধী দলের সারিতে তেমন কাউকে দেখা যায় না। 

তাঁর এই মন্তব্যের পরপরই স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ফ্লোর নিয়ে বলেন, বিরোধী দলেও মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। স্পিকার বিশেষত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের নাম উল্লেখ করে জানান যে, তিনি নিজে রণাঙ্গনে তাঁকে যুদ্ধ করতে দেখেছেন।প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম তাঁর বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনের কৃতিত্ব বিএনপির দাবি করে বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন—এই তিনটি ঐতিহাসিক অর্জনের ‘ট্রফি’ একমাত্র তাঁদের দলের ঘরেই আছে। 

তিনি দাবি করেন, অন্য কোনো রাজনৈতিক দল এই তিনটি কৃতিত্ব একসঙ্গে দেখাতে পারবে না। তাঁর মতে, আওয়ামী লীগ একাত্তর ও নব্বই সালের কথা বলতে পারলেও জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে তাঁদের কোনো গৌরব নেই। অন্যদিকে বর্তমান বিরোধী দলকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, তাঁরা জুলাই-আগস্টের কথা বললেও একাত্তর ও নব্বইয়ের ইতিহাসের সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততা নেই।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে শাহে আলম ১৯৮৬ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, সেই সময় জামায়াত আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল, কিন্তু বিএনপি সেই নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তিনি দাবি করেন, বিএনপি সব সময় দেশ ও জনগণের স্বার্থে রাজপথে সক্রিয় ছিল। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের সব দল বিভিন্ন আন্দোলনে অংশ নিলেও চূড়ান্ত নেতৃত্ব একজনের হাতেই থাকে। আর সেই সুযোগ্য নেতৃত্বের কারণেই বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে এবং দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে।

সংসদে প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্য চলাকালে বিরোধী দলের সদস্যদের পক্ষ থেকে হৈ-চৈ ও প্রতিবাদ লক্ষ্য করা গেছে। তবে স্পিকারের সরাসরি হস্তক্ষেপে ও তথ্য সংশোধনের মাধ্যমে বিতর্কটি নতুন মাত্রা পায়। স্পিকার নিজেই একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা হওয়ায় তাঁর এই সাক্ষ্য সংসদে উপস্থিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অধিবেশনের বাকি সময়জুড়ে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর অন্যান্য সদস্যদের আলোচনা অব্যাহত থাকে।