বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

মধ্যরাত থেকে যেসব এলাকায় বন্ধ হচ্ছে মোটরসাইকেল চলাচল

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ৭, ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম

মধ্যরাত থেকে যেসব এলাকায় বন্ধ হচ্ছে মোটরসাইকেল চলাচল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় মোটরসাইকেল চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। আজ মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাত থেকেই এসব নির্বাচনী এলাকায় মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ভোটের দিন অন্যান্য যানবাহন চলাচলের ওপরও সাময়িক সীমাবদ্ধতা থাকবে বলে জানা গেছে। 

গত সোমবার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আল-আমীন মো. নুরুল ইসলাম। 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে যে, ভোটের প্রস্তুতি এবং সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে ৭ এপ্রিল মধ্যরাত ১২টা থেকে ১০ এপ্রিল মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনী এলাকায় সব ধরনের মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। মূলত নির্বাচনী এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মোটরসাইকেলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত অন্যান্য যানবাহনের জন্যও সময়সীমা অনুযায়ী নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ৮ এপ্রিল মধ্যরাত ১২টা থেকে ৯ এপ্রিল মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার জন্য ট্যাক্সি, প্রাইভেট কার, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ৩২ ধারা অনুযায়ী এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে জরুরি প্রয়োজনে বেশ কিছু ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকদের যানবাহন। এছাড়া জরুরি সেবায় নিয়োজিত অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধ ও স্বাস্থ্য সেবার কাজে ব্যবহৃত গাড়ি এবং সংবাদপত্র বহনকারী যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। ফায়ার সার্ভিস ও টেলিযোগাযোগ সেবার কাজে ব্যবহৃত বিটিআরসি এবং এর লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের গাড়িগুলোকেও জরুরি সেবা হিসেবে গণ্য করা হবে।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনী এজেন্টদের চলাচলের জন্যও বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারের যথাযথ অনুমোদন ও নির্ধারিত স্টিকার প্রদর্শন সাপেক্ষে তারা একটি করে যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন। সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক এবং জরুরি কাজে ব্যবহৃত যানবাহনও নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি নিয়ে চলাচল করতে পারবে। এর বাইরে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও প্রয়োজন অনুযায়ী মোটরসাইকেল ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর এবং আন্তজেলা সংযোগ সড়কের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ প্রয়োজনে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা এসব সড়কে নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা কার্যকর করার পূর্ণ ক্ষমতা রাখবেন। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সাধারণ যাত্রীদের কিছুটা সাময়িক অসুবিধা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে এই নিয়ম মেনে চলার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকায় টহল জোরদার করেছে।