বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে পারত সরকার: আইনমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ৯, ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম

প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে পারত সরকার: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, বর্তমান সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপনের সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। মন্ত্রী বলেন, সরকার চাইলে প্রতিহিংসার পথে হাঁটতে পারত, কিন্তু সেই নীতি গ্রহণ করা হয়নি। 

তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান প্রশাসন চায় না আর কোনো মা তার সন্তানকে ক্রসফায়ার বা গুমের মতো জঘন্য ঘটনার মাধ্যমে হারাক। মানবাধিকার রক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে তিনি দাবি করেন।

সংসদ অধিবেশনে কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপি দলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বিলটির ওপর তীব্র আপত্তি জানালে তার জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আসাদুজ্জামান যুক্তি দেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে প্রণীত ‘মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫’-এ বেশ কিছু কাঠামোগত ও পদ্ধতিগত ত্রুটি ছিল। 

বিশেষ করে তদন্ত প্রক্রিয়া পরিচালনা, জরিমানা নির্ধারণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে ওই অধ্যাদেশে কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা ছিল না। মন্ত্রীর মতে, ওই অধ্যাদেশের অধীনে কমিশন নিজেই মামলা করার ক্ষমতা পেয়েছিল, যা আইনি নিরপেক্ষতার প্রশ্নে একটি বড় জটিলতা তৈরি করতে পারত।গুম বা বলপূর্বক নিখোঁজ করার মতো বিষয়গুলোকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম জঘন্য অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করেন আইনমন্ত্রী। তিনি জানান, এই ধরণের অপরাধ দমনে বর্তমান সরকার ইতিমধ্যেই কঠোর আইন করেছে। 

তবে ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে ‘গুম কমিশন’ সংক্রান্ত যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, তাতে ব্যাপক অস্পষ্টতা ছিল। এই অস্পষ্টতা দূর করা এবং দেশের সব স্টেকহোল্ডার বা অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য আইনি কাঠামো তৈরি করতেই আপাতত ২০০৯ সালের পুরনো আইনটি পুনর্বহাল করা হয়েছে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে আসাদুজ্জামান বলেন, যেকোনো আইন যদি কোনো গোপন উদ্দেশ্য বা নির্দিষ্ট পক্ষের স্বার্থে তৈরি করা হয়, তবে তা শুরু থেকেই গ্রহণযোগ্যতা হারায়। একটি আদর্শ আইন অন্তত ২০ বছর কার্যকর থাকবে—এমন সুদূরপ্রসারী চিন্তা থেকেই সেটি প্রণয়ন করা উচিত। তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন যে, তড়িঘড়ি করে কোনো ত্রুটিপূর্ণ আইন চাপিয়ে দেওয়া হবে না। বরং সবার মতামত নিয়ে একটি স্বচ্ছ ও শক্তিশালী মানবাধিকার আইন প্রণয়ন করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য। সরকারের এই উদ্যোগ দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।