বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

মার্চে সড়কে প্রাণ গেছে ৫৩২ জনের

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০২:৩১ পিএম

মার্চে সড়কে প্রাণ গেছে ৫৩২ জনের

ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা

দেশের সড়কগুলোতে মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। সর্বশেষ মার্চ মাসের পরিসংখ্যান এক ভয়াবহ চিত্র সামনে এনেছে। গত এক মাসে সারা দেশে ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫৩২ জন। নিহতদের মধ্যে ৬৬ জন নারী ও ৯৮ জন শিশু রয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও ২ হাজার ২২১ জন। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী কেবল সড়কেই নয়, রেল ও নৌপথেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রাণহানি ঘটেছে। মার্চ মাসে ১৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে, ৪৮টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত এবং ২২৪ জন আহত হয়েছেন। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন পোর্টাল এবং ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। ২০৪ জন মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী প্রাণ হারিয়েছেন, যা মোট নিহতের একটি বড় অংশ। 

এ ছাড়া বাসের যাত্রী ৪৫ জন, তিন চাকার যানবাহনের (ইজিবাইক-সিএনজি) যাত্রী ৯৪ জন এবং ট্রাক-পিকআপে ২৮ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার স্থান বিশ্লেষণে দেখা যায় ১৭১টি দুর্ঘটনা জাতীয় মহাসড়কে এবং ২৬৪টি আঞ্চলিক সড়কে ঘটেছে। বেশিরভাগ দুর্ঘটনাই ঘটেছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এবং মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে।ভৌগোলিক দিক থেকে ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনার হার সবচেয়ে বেশি। এই বিভাগে ১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে কেবল রাজধানী ঢাকাতেই ৪৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। 

সবচেয়ে কম প্রাণহানি ঘটেছে সিলেট বিভাগে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিদিন গড়ে ১৫.৪২ জন নিহত হয়েছিল, যা মার্চে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭.১৬ জনে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে প্রাণহানি বেড়েছে ১১.২৮ শতাংশ।বিশ্লেষণে দেখা গেছে অতিরিক্ত গতি এবং চালকদের বেপরোয়া মানসিকতাই এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। এ ছাড়া ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, অদক্ষ চালক এবং রাস্তার অবকাঠামোগত সমস্যার কারণেও দুর্ঘটনা বাড়ছে। 

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং প্রাণহানি কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও চালকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন চলাচল বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। মূলত নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগই এখন সময়ের দাবি।