এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে এবার সামনে এসেছেন এক শহীদ যোদ্ধার বোন। আন্দোলনের সময় আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত দাবিগুলো পূরণের লক্ষ্যে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি সরাসরি অনুরোধ জানান।
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি তাঁর পরিবারের বর্তমান অবস্থা ও যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, যে স্বপ্ন নিয়ে তাঁর ভাইসহ শত শত মানুষ জীবন দিয়েছিলেন, তা আজও পুরোপুরি পূরণ হয়নি।
শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে তিনি মনে করেন, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর মতো প্রকৃত কাউকেই দেখা যাচ্ছে না। ভাই হারানোর হাহাকার আজও কাটেনি জানিয়ে তিনি বলেন, ঘর থেকে বের হলেই তাঁর মা দুশ্চিন্তায় থাকেন। অথচ এমনটি হওয়ার কথা ছিল না।ভাইয়ের অনুপস্থিতি প্রতিটি মুহূর্তে অনুভব করেন তিনি।
একটি ফোনকলের অপেক্ষায় থাকা সেই অভ্যাস এখনো কাটেনি কিন্তু সেই কাঙ্ক্ষিত ফোন আর আসে না। শহীদের বোনের ভাষায়, অনেক আশা নিয়ে তাঁরা জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় পরিবারের সবার মনে হতাশা আরও গভীর হয়েছে। শহীদদের ত্যাগের মূল্যায়ন না হলে আন্দোলনের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি সরাসরি আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায়ের বিষয়টি যেন দ্রুত সংসদে পাস করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর হাতে এই পরিবর্তনের ক্ষমতা রয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, একসময় কৃষি ইনস্টিটিউটে তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল এবং প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বোন বলে সম্বোধন করেছিলেন। তবে সেই সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় তাঁদের পরিবারের কোনো খোঁজখবর পরবর্তীতে কেউ নেয়নি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।
শহীদের এই বোন গভীর হতাশা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে তাদের মনে হচ্ছে যে আন্দোলনে অংশ নেওয়াটা হয়তো ভুল ছিল। যদি এভাবেই অবহেলা চলতে থাকে, তবে ভবিষ্যতে কেউ দেশের বিপদে নিজের জীবন দিতে এগিয়ে আসবে কি না, তা নিয়ে তাঁর মনে বড় প্রশ্ন ও শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। এই আবেগঘন বক্তব্য বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এই দাবিগুলো এখন সাধারণ মানুষের মধ্যেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। শহীদ পরিবারের সদস্যদের যথাযথ সম্মান ও জুলাইয়ের অঙ্গীকার পূরণই এখন সময়ের বড় দাবি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন