বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

নববর্ষে ঐক্য ও নতুন প্রত্যয়ের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ১০:৫২ পিএম

নববর্ষে ঐক্য ও নতুন প্রত্যয়ের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বাঙালি সংস্কৃতির প্রাণোৎসব বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দেওয়া এক বাণীতে তিনি জাতীয় ঐক্য, সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। 

রাষ্ট্রপতি পহেলা বৈশাখকে বাঙালির প্রাণের সর্বজনীন উৎসব হিসেবে বর্ণনা করে একে আমাদের আত্মপরিচয়ের ধারক ও বাহক হিসেবে অভিহিত করেন।বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতি, ধর্ম ও বর্ণের সকল ভেদাভেদ ভুলে পহেলা বৈশাখ আমাদের জন্য এক আনন্দ ও মিলনের দিনে পরিণত হয়। 

এই উৎসব আমাদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বৈশাখের আগমনে নতুন প্রত্যাশা ও অসীম সম্ভাবনার স্বপ্ন জাগে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতের সকল বেদনা, গ্লানি ও ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে আমাদের নতুন উদ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে দেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রের নতুন পথচলা শুরু হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জনকল্যাণমুখী ও দূরদর্শী বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। বিশেষ করে কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে মুঘল আমল থেকে শুরু হওয়া ফসলি সনের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির সূচনাকে তিনি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার মতে, এই উদ্যোগ কৃষি খাতের আধুনিকায়ন এবং প্রান্তিক কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সবাইকে আরও সংযমী, ধৈর্যশীল ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং নিষ্ঠার মাধ্যমে যেকোনো কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব। নববর্ষের এই আনন্দঘন মুহূর্তে তিনি অশুভ ও অসুন্দরকে বিদায় জানিয়ে সত্য ও সুন্দরের জয়গান গাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

পরিশেষে রাষ্ট্রপতি দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের উচিত পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করা। বিভেদ ভুলে একটি অসাম্প্রদায়িক, ঐক্যবদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলাই হোক নতুন বছরের মূল লক্ষ্য। বিদায়ী বছরের সব দুঃখ-বেদনা মুছে গিয়ে নতুন বছর যেন প্রত্যেকের জীবনে সুখ, শান্তি ও অনাবিল সমৃদ্ধি বয়ে আনে, বাণীতে সেই আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।