এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ১০:৫৯ এএম
বাঙালি সংস্কৃতিকে তার হাজার বছরের সমৃদ্ধ উত্তরাধিকার থেকে বিচ্ছিন্ন করতে অপশক্তি এখনও সক্রিয় বলে মন্তব্য করেছেন ছায়ানট সভাপতি সারওয়ার আলী। তিনি বর্তমান সমাজের অসহিষ্ণুতা ও সাংস্কৃতিক নিগ্রহের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আমরা এমন এক সমাজ চাই যেখানে সবাই নির্ভয়ে গাইতে পারবে এবং সংস্কৃতির প্রতিটি প্রকাশ হবে নির্বিঘ্ন।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর রমনার বটমূলে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।সারওয়ার আলী তাঁর বক্তব্যে পহেলা বৈশাখকে বাঙালি জাতিসত্তা উন্মোচনের বিশেষ দিন হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, বিগত ছয় দশক ধরে আমরা এই দিনে জীর্ণতা মুছে নতুন বছরকে বরণ করে নিচ্ছি। তবে গত এক বছরে ছায়ানট ভবন, সংবাদপত্র অফিস এবং উদীচীর ওপর হামলার মতো সহিংস ঘটনাগুলো আমাদের শঙ্কিত করে। বিশেষ করে বাউল শিল্পীদের অপদস্থ করার ঘটনা এবং ২০০১ সালের রমনার বটমূলে সংঘটিত ট্র্যাজেডির স্মৃতি আজও আমাদের মনে আতঙ্ক জাগিয়ে তোলে।
তিনি আরও বলেন, সংগীত বাঙালির আনন্দ-বেদনা ও সব অধিকার আদায়ের সংগ্রামের সঙ্গী। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট অপশক্তি ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে সংগীত ও সংস্কৃতি থেকে দূরে সরিয়ে দিতে চায়। বর্তমানে সমাজে আপন মত প্রকাশে দলবদ্ধ নিগ্রহের আশঙ্কা বেড়েছে। শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও মার্কিন-ইসরায়েলি নিগ্রহের কারণে আজ পারস্য সভ্যতা বিপর্যয়ের সম্মুখীন। এই বৈশ্বিক অস্থিরতা ও আতঙ্ক স্বদেশেও উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে বিশ্বশান্তি কামনা করে ছায়ানট সভাপতি বলেন, আমরা সমাজের পক্ষ থেকে সেই অভয়বাণী শুনতে চাই যেখানে সংবাদকর্মীরা নির্ভয়ে সত্য প্রকাশ করতে পারবেন। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী পঙ্ক্তি স্মরণ করে বলেন, "চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির"—এমন এক মাতৃভূমির স্বপ্ন আমরা দেখি যেখানে জ্ঞান হবে মুক্ত এবং গৃহের প্রাচীর হবে সুদৃঢ়। বাঙালি যেন কোনো ধরনের গ্লানি ও শঙ্কা ছাড়াই মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে, এটাই এবারের নববর্ষের মূল প্রত্যাশা।
উল্লেখ্য, প্রতিবছরের মতো এবারও মঙ্গলবার ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ণাঢ্য আয়োজন শুরু হয়। উচ্চাঙ্গ সংগীত, সমবেত গান ও একক সংগীতের মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নেয় ছায়ানট। অনুষ্ঠানটি শেষ হয় সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। অনুষ্ঠানস্থলে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকলেও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন