বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

ঢাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলো বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ১২:২৩ পিএম

ঢাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলো বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা

বৈশাখী শোভাযাত্রার সমাপ্তি

বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ ও ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ বরণে আয়োজিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী শোভাযাত্রা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের সূচনা হয়। 

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো শাহবাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এক বিশাল মিলনমেলায় পরিণত হয়। ইউনেস্কো স্বীকৃত এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মূল সুর ছিল সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা।

এবারের শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ মোড়, দোয়েল চত্বর এবং বেগম রোকেয়া হল এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় চারুকলার সামনে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। 

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য সায়মা হক বিদিশা, উপ-উপাচার্য ড. আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিদ্দিকুর রহমান খান এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য লুৎফর রহমানসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা।শোভাযাত্রার শুরুর দিকে ছিল ঢাকা মহানগর পুলিশের ১০ সদস্যের একটি সুসজ্জিত ঘোড়সওয়ার দল। এরপরই জাতীয় পতাকা বহন করে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর একটি দল অংশগ্রহণ করে। এবারের আয়োজনের মূল আকর্ষণ ছিল পাঁচটি বিশালাকৃতির মোটিফ—মোরগ, বেহালা, শান্তির পায়রা, হাতি ও ঘোড়া। 

প্রতিটি মোটিফ শক্তি, সৃজনশীলতা ও শান্তির বার্তা বহন করছিল। পাশাপাশি প্রায় দেড়শ ফুট দীর্ঘ একটি পটচিত্রের স্ক্রল পেইন্টিং শোভাযাত্রায় এক ভিন্নধর্মী শৈল্পিক মাত্রা যোগ করে।শোভাযাত্রায় সমসাময়িক বিশ্ব ও দেশীয় বিভিন্ন ইস্যুর প্রতিফলন দেখা গেছে। বিশেষ করে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে অনেক অংশগ্রহণকারীকে প্রতিবাদী সংহতি জানাতে দেখা যায়। এছাড়াও দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই আয়োজনটিকে বহুসাংস্কৃতিক ঐক্যের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছে। শোভাযাত্রার পুরোটা সময় ঢোল, বাঁশি এবং প্রায় ৪০ জন যন্ত্রশিল্পীর দোতরার সুর পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে রাখে।

পুরো আয়োজনকে ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবী ও বিএনসিসি সদস্যরা শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন করেন। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ হওয়ায় আয়োজক ও নগরবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বাঙালির ঐতিহ্যের এই যাত্রা নতুন বছরে সবার জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে বলে আশা প্রকাশ করেন উপস্থিত অতিথিরা।