এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম
পঞ্চগড়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, দেশের অন্যান্য এলাকার মতো পাইলট প্রকল্প হিসেবে পঞ্চগড়ের পাঁচপীর এলাকায় দুই হাজার কৃষককে কৃষি কার্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের কমলাপুর ব্লকের আরও দেড় হাজার কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে।
কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি বা বৈষম্য করা হবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।মঙ্গলবার দুপুরে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার পাঁচপীর ইউনিয়নের বৈরাতী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মূলত কৃষক কার্ড বিতরণ উপলক্ষেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতিমধ্যে ভার্চুয়ালি এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। কার্ডধারী নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তিন স্তরে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করেছেন।
তিনি ব্যক্তিগতভাবেও জানেন না কারা এই কার্ড পেয়েছেন, কারণ যোগ্যতার ভিত্তিতেই এই তালিকা নির্ধারিত হয়েছে।ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, কৃষি কার্ড বা ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধর্ম, বর্ণ বা দলীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হবে না। যারা প্রকৃতপক্ষে পাওয়ার যোগ্য, তাদের হাতেই এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে। ইতিমধ্যে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে সারা দেশে আরও ৫০ লাখ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
দেশের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে শুধু প্রশাসন নয়, বরং দলমত নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি সচেতন মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সরকার ও প্রশাসনকে সঠিক তথ্য ও সহযোগিতা করলে দেশ দ্রুত উন্নতির শিখরে পৌঁছাবে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সহায়তার ক্ষেত্রেও দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে থেকে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী প্রতীকীভাবে ১৫ জন কৃষক ও কৃষাণীর হাতে ডিজিটাল কৃষক কার্ড এবং দুইটি করে ফলজ গাছের চারা তুলে দেন।
দীর্ঘদিন পর সরকারি এমন সহায়তা সরাসরি হাতে পেয়ে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। উপস্থিত কৃষকেরা জানান, পূর্ববর্তী সরকারগুলোর আমলে এ ধরনের স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কার্ড বিতরণের উদ্যোগ তারা খুব একটা দেখেননি। নতুন কার্ডের মাধ্যমে কৃষি উপকরণ ও সরকারি সুবিধা প্রাপ্তি আরও সহজ হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। শেষে বৈরাতী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ চত্বরে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিরও সূচনা করা হয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন