বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

আম-জাম যখন ধরবে আমি খাবো, আমাকে পাঠাবেন: কৃষকদের প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম

আম-জাম যখন ধরবে আমি খাবো, আমাকে পাঠাবেন: কৃষকদের প্রধানমন্ত্রী

চারা ও কার্ড দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-এর প্রথম দিনে টাঙ্গাইলে প্রান্তিক চাষিদের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেওয়ার পাশাপাশি গাছের চারা বিতরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি কৃষকদের সঙ্গে অত্যন্ত সহজ-সরল ও হাস্যরসাত্মক ভঙ্গিতে কথা বলেন। 

চারা বিতরণের সময় প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের উদ্দেশে তাঁর স্বভাবসুলভ ঢঙে বলেন, “উনাদের গাছের চারা দিচ্ছি। কয়েকজনকে জামগাছ দিয়েছি, আমগাছ দিয়েছি। আমি উনাদের বলেছি, এটি বাসার সামনে রোপণ করতে হবে। যারা আম ও জামগাছ পেয়েছেন, আমি তাদের বলেছি, আম, জাম যখন ধরবে আমি খাবো, আমাকে পাঠাবেন।”

দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কৃষিকে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ সরাসরি কৃষির সঙ্গে জড়িত। 

এছাড়া আমাদের দেশের প্রায় প্রতিটি পরিবারের কেউ না কেউ কোনো না কোনোভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত। দেশের প্রধান পেশাই হলো কৃষি। সরকারের লক্ষ্য অর্জনের অংশ হিসেবে প্রথম পর্যায়ে দেশের প্রায় ২২ হাজার কৃষকের কাছে ‘কৃষক কার্ড’ সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা দেশের মানুষের কাছে যেসব অঙ্গীকার করেছিলাম, তার মধ্যে অন্যতম ছিল এই কৃষক কার্ড। 

এটি কেবল একটি কার্ড নয়, বরং কৃষকদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির একটি মাধ্যম। তিনি আরও জানান, সরকারের বিশেষ উদ্যোগে দেশের প্রায় ১২ লাখ কৃষক ইতোমধ্যে সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের মওকুফের সুবিধা পেয়েছেন। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের ঋণের বোঝা লাঘব করে তাদের স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ হাতে ১৫ জন নির্বাচিত কৃষকের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষক কার্ড বিতরণ করেন এবং প্রত্যেকের হাতে বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছের চারা তুলে দেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন কৃষকরা সরকারি ভর্তুকি ও সহায়তা সরাসরি পাবেন, অন্যদিকে দেশ সবুজায়ন ও পুষ্টির ক্ষেত্রেও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।