এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম
ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ৭ নভেম্বরকে পুনরায় ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার। একই সঙ্গে দিনটিকে ‘ক-শ্রেণি’ ভুক্ত দিবস হিসেবে ঘোষণা করে দীর্ঘ সময় পর সরকারি ছুটি পুনর্বহাল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এর ফলে দেশের সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডারে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন পুনরায় যুক্ত হলো।বৈঠক শেষে রাত ৮টায় সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা দেশবাসীকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, বিগত ১৬ বছর ধরে এই দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে বর্তমান সরকার এই ঐতিহাসিক দিনটির গুরুত্ব ও জাতীয় প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে এটি পুনরায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সচিব স্পষ্ট করে জানান যে, এখন থেকে প্রতি বছর ৭ নভেম্বর সারা দেশে সাধারণ সরকারি ছুটি কার্যকর থাকবে।মন্ত্রিসভার এই বৈঠকে দেশের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে মাইলফলক হিসেবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য কমিশনিং লাইসেন্স পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়। এর ফলে প্রকল্পটি এখন জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় এক ধাপ এগিয়ে গেল। এছাড়াও প্রশাসনিক বিভিন্ন সংস্কার ও জননিরাপত্তার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
উল্লেখ্য যে, এমন একটি দিনে ৭ নভেম্বরের ছুটি পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত এলো, যখন রাজনৈতিক অঙ্গনে নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর গুম হওয়ার ১৪ বছর পূর্ণ হয়েছে। এ বিষয়টি নিয়েও সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৭ নভেম্বরের এই ছুটি পুনর্বহাল মূলত জাতীয় সংহতি সুদৃঢ় করতে এবং ইতিহাসের সঠিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। শীঘ্রই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন