এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এই দিনটি এক গৌরবোজ্জ্বল এবং অবিস্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল তৎকালীন মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছিল।
এই সরকারের নেতৃত্বেই নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর অর্জিত হয়েছিল বাংলাদেশের চূড়ান্ত বিজয়।ইতিহাসের পাতা উল্টে দেখা যায়, ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠন করা হয়।
এর পাশাপাশি এম এ জি ওসমানীকে প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়েছিল। ১৭ এপ্রিল বৈদ্যনাথতলার সেই ঐতিহাসিক স্থানে অস্থায়ী সরকারের শপথ অনুষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীতে ‘মুজিবনগর’ নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করে।
সেই দিন তৎকালীন সাব-ডিভিশনাল পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে ১২ জন আনসার সদস্য ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার প্রদান করেছিলেন। দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে সেই শপথ অনুষ্ঠানটি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে সারা দেশে সম্প্রচার করা হয়।মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বেগবান করার ক্ষেত্রে এই দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম হলেও এ বছর দিবসটি উপলক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি গ্রহণ করার খবর পাওয়া যায়নি।
মেহেরপুর জেলা প্রশাসক শিল্পি রানী রায় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস পালন সংক্রান্ত কোনো সরকারি নির্দেশনা এখনো তাঁর দপ্তরে পৌঁছায়নি। যদি পরবর্তীতে কোনো নির্দেশনা আসে, তবে সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন ১৯৭১ সালের সেই ঐতিহাসিক দিনে গার্ড অব অনার প্রদানকারী ১২ আনসার সদস্যের মধ্যে বেঁচে থাকা একমাত্র দুজন—সিরাজ উদ্দিন ও আজিম উদ্দিন শেখ।
বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই দুই বীর যোদ্ধা এবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো যোগাযোগ না করায় অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছেন। আনসার সদস্য সিরাজ উদ্দিন বলেন, প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা এবার তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে সরকারিভাবে কোনো আয়োজন না থাকলেও তাঁরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে মুজিবনগরে গিয়ে শহীদ ও প্রয়াত সহযোদ্ধাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করবেন বলে জানিয়েছেন।
জাতীয় ইতিহাসে এই দিনটির তাৎপর্য তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য স্থায়ী রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন ইতিহাসবিদরা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালোরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার পর এই অস্থায়ী সরকারই আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠন ও যুদ্ধ পরিচালনায় মূল নেতৃত্ব দিয়েছিল। তাই প্রতি বছর যথাযোগ্য মর্যাদায় এই দিবসটি পালন করা জাতীয় দায়িত্বের অংশ বলে তারা মনে করেন।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন