শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

পাচারের টাকা দেশে ফিরিয়ে এনে ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে ব্যবহার করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ২০, ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম

পাচারের টাকা দেশে ফিরিয়ে এনে ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে ব্যবহার করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ীতে সোমবার দুপুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্নীতি ও অর্থ পাচার নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন যে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে দেশ থেকে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করা হয়েছে, তা ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। 

এই ফিরিয়ে আনা অর্থ সরাসরি জনগণের সেবায় ব্যবহৃত হবে। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে এই অর্থ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বর্তমান সরকার। গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ীতে ৯১১ জন সুবিধাভোগীর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে জনগণের অর্জিত অর্থ বিদেশে চলে যাওয়া মানে দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করা। তাই প্রতিটি পাচার হওয়া পয়সা দেশের অর্থনীতিতে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। 

তারেক রহমান আরও বলেন যে সরকারের আগামী পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনার মূল কেন্দ্রে রয়েছে গ্রামীণ জনপদ। দেশের সত্তর শতাংশ মানুষ যেহেতু গ্রামে বাস করেন, তাই তাঁদের জীবনমান উন্নত করতে এবং কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্পে গতি আনতে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হলে তবেই দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান যে তাঁর সরকার কথার চেয়ে কাজে বেশি বিশ্বাসী। কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বজায় রেখে অভাবী মানুষের সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষি ঋণ মওকুফের যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তার সফল বাস্তবায়ন হয়েছে। 

এখন পর্যন্ত সারাদেশের প্রায় ১২ লক্ষ কৃষক এই সুবিধার আওতায় এসেছেন যা কৃষি খাতে বড় ধরণের স্বস্তি বয়ে এনেছে। ধীরে ধীরে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে এবং সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে এই ধরণের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও জোরদার করার কথা জানান তিনি। উপস্থিত সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন যে সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা এবং বাংলাদেশকে একটি স্বনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা।