বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণকাজ উদ্বোধন

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ০৩:২২ পিএম

যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণকাজ উদ্বোধন

হাসপাতাল কাজের উদ্বোধন

যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও আকাঙ্ক্ষিত ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার দুপুর ২টার দিকে তিনি এই মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৮০ লাখ মানুষের জন্য উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পথে এক নতুন মাইলফলক সৃষ্টি হলো। 

বিশেষ করে যশোর ছাড়াও ঝিনাইদহ, মাগুরা ও নড়াইল জেলার বাসিন্দারা এই প্রকল্পের সরাসরি সুফল পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে প্রথম যশোরে এই মেডিকেল কলেজ স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। 

সেই সময়েই শহরের দক্ষিণে হরিণার বিল এলাকায় প্রায় ৭৫ বিঘা জমি অধিগ্রহণ করা হয়। তবে পরবর্তী বছরগুলোতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে প্রকল্পের মূল হাসপাতাল নির্মাণকাজ স্থবির হয়ে পড়ে। 

২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হলেও কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম দীর্ঘদিন অস্থায়ীভাবে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পরিচালিত হয়েছে। নিজস্ব ক্যাম্পাসে ২০১৬ সালে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হলেও হাসপাতালের অভাবে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষার সুযোগ ছিল সীমিত।প্রকল্পের কারিগরি দিক সম্পর্কে গণপূর্ত অধিদপ্তর যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ৬৭৬ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। এই মেগা প্রকল্পের অধীনে ১০ তলাবিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা হবে। 

এ ছাড়া প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের জন্য পৃথক হোস্টেল, একটি পূর্ণাঙ্গ নার্সিং কলেজ ও হোস্টেল, স্টাফ নার্স ডরমেটরি এবং চিকিৎসক ও কর্মচারীদের জন্য অত্যাধুনিক আবাসন সুবিধা। রোগীদের সুবিধার্থে ৫০০ আসনের একটি বিশাল মিলনায়তন, কেন্দ্রীয় মসজিদ এবং একটি শক্তিশালী বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রও নির্মাণ করা হবে এই কমপ্লেক্সের ভেতরে।মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন যে, কলেজের সঙ্গে হাসপাতাল না থাকায় তাদের ক্লিনিক্যাল ক্লাসগুলো পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ত। 

বিশেষ করে শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত বিড়ম্বনা ও সময়ের অপচয় ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। এখন নিজস্ব হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার মান যেমন বাড়বে, তেমনি হাতে-কলমে শিখতে পারবেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে এই বিশাল নির্মাণযজ্ঞ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আজকের এই সফর যশোরবাসীর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আগে তিনি শার্শা উপজেলার উলাশীতে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ উলাশী-যদুনাথপুর খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। দক্ষিণবঙ্গের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এই বড় প্রকল্পগুলো হাতে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ৫০০ শয্যার হাসপাতালটি পুরোদমে চালু হলে অত্র অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার পথ আগের চেয়ে অনেক সহজ ও সুলভ হবে।