মে ২, ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম
সিলেটে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২ মে) বিকেলে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে তিনি এই প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সারা দেশের জেলা স্টেডিয়ামগুলো থেকে খুদে ক্রীড়াবিদরাও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিল।
আজ বেলা ৩টা ৪০ মিনিটে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী। বিকেল ৫টা ৮ মিনিটে তিনি এই প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোর ক্রীড়াবিদদের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ের দেশসেরা ৩২ জন খেলোয়াড় উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা বিভিন্ন খেলার প্রতিনিধি হিসেবে এই প্রতিযোগিতার ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণে ১৯৭৬ সালে যাত্রা শুরু হয়েছিল ‘নতুন কুঁড়ি’র। বাংলাদেশ টেলিভিশনের এক সময়ের জনপ্রিয় সেই অনুষ্ঠানের নাম ফিরিয়ে এনে এবার ক্রীড়াঙ্গনে বড় উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার।
ক্ষমতাসীন বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, এই উদ্যোগকে তারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের নিয়ে মোট ৮টি জনপ্রিয় ইভেন্টে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। খেলাগুলো হলো ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, দাবা, অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট। প্রতিটি পর্যায়ে একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক কমিটি পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করছে। প্রতিযোগিতায় একজন খেলোয়াড় সর্বোচ্চ দুটি খেলায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।
প্রতিযোগিতার রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া গত ১২ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত চলে। স্বল্প সময়েও সারা দেশ থেকে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬৯৩ জন প্রতিযোগী এই ৮টি ইভেন্টে নাম লিখিয়েছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার ৯৪৯ জন ছেলে এবং ৪৬ হাজার ৭৪৪ জন মেয়ে প্রতিযোগী রয়েছে। আঞ্চলিক পর্যায়ে ঢাকা অঞ্চল থেকে সবচেয়ে বেশি ২৫ হাজার ৩৮৭ জন রেজিস্ট্রেশন করেছে।
পুরো দেশকে ১০টি শক্তিশালী অঞ্চলে বিভক্ত করে এই প্রতিযোগিতা পরিচালনা করা হবে। অঞ্চলগুলো হলো ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ। প্রতিটি পর্যায়ে বিজয়ী হয়ে সবশেষে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে খুদে অ্যাথলেটরা। ১৩ থেকে ২২ মে’র মধ্যে শেষ হবে আঞ্চলিক পর্বের খেলা।
সরকার এরই মধ্যে দেশসেরা খেলোয়াড়দের জন্য ক্রীড়া কার্ড প্রদান শুরু করেছে। এর মাধ্যমে অ্যাথলেটরা নিয়মিত আর্থিক সহযোগিতা পাচ্ছেন। এই কার্ডের আওতা ভবিষ্যতে আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে সরকার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। আজকের অনুষ্ঠানে খুদে ক্রীড়াবিদদের কুচকাওয়াজ ও বিভিন্ন শারীরিক কসরত প্রদর্শন করা হয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন