রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

একটি যুদ্ধ শেষ, আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

মে ৯, ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম

একটি যুদ্ধ শেষ, আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “একটি যুদ্ধ শেষ হয়েছে, এখন আমাদের আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে। আর সেই যুদ্ধটি হলো জনগণকে দেওয়া আমাদের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি (কমিটমেন্ট) বাস্তবায়ন করা।” রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নির্বাচনের পর দেশ গড়ার এই নতুন লড়াইকে তিনি দলের নেতাকর্মীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

শনিবার (৯ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে (কেআইবি) বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মূলত ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দিকনির্দেশনামূলক এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আমরা দেশের মানুষকে সুশাসন দেওয়ার কথা বলেছিলাম। আমরা এমন একটি দেশ গড়তে চাই, যেখানে শিক্ষার্থীরা শিক্ষার জন্য চমৎকার পরিবেশ পাবে এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ রাস্তায় নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং জনগণের জীবনের গুণগত পরিবর্তনই এই সরকারের মূল লক্ষ্য।বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “যখন আমাদের নেতাকর্মীরা অবর্ণনীয় নির্যাতন, গুম ও খুনের শিকার হচ্ছিলেন, তখনও আমরা চেয়েছিলাম দেশে এমন একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হোক যেখানে সুস্থ তর্ক-বিতর্ক থাকবে এবং মানুষের কথা বলার অবারিত সুযোগ থাকবে। আমরা এখন সেই নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই।

গেল নির্বাচনের কঠিন পথ পাড়ি দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “আমি আগেই বলেছিলাম নির্বাচনটি অনেক কঠিন হবে। দেশের মানুষ আমাদের ওপর আস্থা রেখেছে এবং আমাদের ইশতেহারের পক্ষে ব্যাপক সমর্থন দিয়েছে।” তিনি নেতাকর্মীদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, ৫২ শতাংশ মানুষ সরাসরি ধানের শীষের ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বারোপ করে বলেন, “নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের আগ পর্যন্ত এটি ছিল কেবল একটি রাজনৈতিক দলের ইশতেহার। কিন্তু আমরা সরকার গঠন করার পর এটি এখন পুরো বাংলাদেশের জনগণের সম্পদে পরিণত হয়েছে। তাই আমাদের এখন সর্বোচ্চ শ্রম ও আন্তরিকতা দিয়ে এই ইশতেহারের প্রতিটি দফা বাস্তবায়ন করতে হবে।”

বক্তব্য শেষে তিনি নেতাকর্মীদের ধৈর্যশীল হওয়ার এবং জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করার নির্দেশ দেন। অনুষ্ঠানে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সরকার ইতিমধ্যে ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তৈরির কাজ শুরু করেছে।