জুন ৩, ২০২৬, ১০:২৫ এএম
দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ৪৯২টি উপজেলার বিদ্যমান ৫০ শয্যার সরকারি হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। বুধবার সকালে এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন গণমাধ্যমের সামনে স্বাস্থ্য খাতের এই যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।
নতুন এই বর্ধিত হাসপাতালগুলোতে সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকার মানুষের জন্য উন্নত ও বিশেষায়িত আইসিইউ বা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের আধুনিক সুবিধাও নিশ্চিত করা হবে।দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের স্বাস্থ্য কাঠামোর এমন আমূল পরিবর্তন তৃণমূল সাধারণ মানুষের সুচিকিৎসার দীর্ঘদিনের অভাব সফলভাবে দূর করতে বড় ভূমিকা রাখবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় আজ বুধবার থেকেই সরকারের গণপূর্ত বিভাগ এই বৃহৎ প্রকল্পের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু করে দিয়েছে।
এর পাশাপাশি দেশের নারী ও শিশুদের জন্য অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে সারা দেশে ৫টি করে সম্পূর্ণ আলাদা ও বিশেষায়িত নতুন হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। এই মেগা প্রকল্পের আওতায় উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর সামগ্রিক চিকিৎসা সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম ও পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে মোতায়েন করা হবে।সরকারি এই যুগান্তকারী পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ মানুষের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা বা বড় বিভাগীয় শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়া মূলত গ্রামীণ চিকিৎসা ব্যবস্থার মান উন্নত করার ক্ষেত্রে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। স্বাস্থ্য বা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে এই বৃহৎ উন্নয়ন বাজেটের সঠিক ও শতভাগ স্বচ্ছ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদারকি সেল গঠন করা হয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীরা ইতিমধ্যে নির্ধারিত উপজেলাগুলোর মাঠপর্যায়ে সমীক্ষা শুরু করেছেন যার মাধ্যমে চিকিৎসা খাতে এক নতুন বৈপ্লবিক দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন