জুন ৪, ২০২৬, ১১:১৫ এএম
এবারের ঈদুল আজহার আগে ও পরে ১৩ দিনে সারা দেশে ২৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮১ জন নিহত হয়েছেন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৮৩৭ জন।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। মোট ১৪১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা মোট নিহতের প্রায় ৪৪ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের মধ্যে ৫৭ শতাংশেরই বয়স ১৪ থেকে ২০ বছর। এছাড়া ৩৭ জন পথচারী এবং যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৩৩ জন। নিহতের তালিকায় ৪৮ জন শিশু এবং ৩৪ জন নারী রয়েছেন।
দুর্ঘটনার একটি বড় অংশ ঘটেছে আঞ্চলিক ও জাতীয় মহাসড়কে। এর মধ্যে ১১২টি আঞ্চলিক সড়কে এবং ৯৭টি জাতীয় মহাসড়কে সংঘটিত হয়। ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সবচেয়ে বেশি ১২৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে ৭৩টি।
ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৯৫টি দুর্ঘটনায় ১০১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।বিপরীতে সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ৯টি দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছেন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, এবারের ঈদযাত্রায় রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় এক কোটির বেশি মানুষ ঘরমুখী যাত্রা করেছিলেন। একমাত্র ট্রেন ছাড়া সড়ক ও নৌ-পথে এবার ভোগান্তি তুলনামূলক কম ছিল। তবে উত্তরবঙ্গের পথে তীব্র যানজট দেখা যায় এবং পরিবহন খাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও ওঠে।সংস্থাটির মতে, পরিবহন খাতে কোনো ধরনের ব্যবস্থাপনাগত উন্নতি হয়নি।
ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কারণে দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে। নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে কমপক্ষে তিন বছর মেয়াদি একটি টেকসই পরিবহন পরিকল্পনা গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।এছাড়া মোটরসাইকেলের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ এবং মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য আলাদা লেন বা সার্ভিস রোড নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছে। জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে এই পর্যবেক্ষণে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন