জুন ১২, ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম
ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন দেশটির প্রবীণ রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদী। শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত চেকপয়েন্ট দিয়ে তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে আসার সময় তাঁর সঙ্গে তাঁর সহধর্মিনী মৃণাল ত্রিবেদীও এসেছিলেন।পরে সড়কপথে দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।
সীমান্ত পার হয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন দীনেশ ত্রিবেদী। দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব দিয়ে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যা আর বাংলাদেশের ২০ কোটি যদি একসঙ্গে করা হয় তাহলে তা হবে ১৬০ কোটি। এই দুই গণতান্ত্রিক দেশের শক্তি এক হলে বিশ্ব শক্তিতে পরিণত হবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে তা বৃহৎ একটি জনশক্তিতে রূপান্তরিত হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে তাঁর দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং অচিরেই পর্যটক ভিসা বা টুরিস্ট ভিসা চালু করা হবে।গত ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে ভারত সরকার ভারতের সাবেক রেলমন্ত্রী ও ব্যারাকপুরের সাবেক এমএলএ বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশের ১৮তম হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়। তিনি ২০২২ সাল থেকে ঢাকায় দায়িত্ব পালন করা বিদায়ী হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
সাধারণত ভারতের পররাষ্ট্র সার্ভিসের কর্মকর্তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হলেও দীনেশ ত্রিবেদীর ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। গুজরাটি ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও তিনি চমৎকার বাংলা বলতে পারেন এবং বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি তাঁর গভীর বোঝাপড়া রয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সুসম্পর্ক থাকা এই প্রবীণ নেতার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল আশির দশকে কংগ্রেস দলের মাধ্যমে। পরবর্তীতে তিনি জনতা দলে যোগ দেন এবং ১৯৯০ সালে প্রথমবার দিল্লির উচ্চকক্ষ राज्यসভার সদস্য নির্বাচিত হন। পরর্বতী সময়ে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে আবারও সংসদ সদস্য হন এবং দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের আমলে ভারতের কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সবশেষ ২০২১ সালের মার্চ মাসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপিতে যোগদান করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন